টরন্টো স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজার পর আইভরিকোস্টের জন্য খারাপ লাগতেই পারে। এর পাশাপাশি গ্যারি লিনেকারের বিখ্যাত ও ক্লিশে হয়ে পড়া উক্তিটিও মনে পড়তে পারে, ‘ফুটবল খুবই সহজ খেলা। ২২ জন মানুষ ৯০ মিনিট ধরে একটি বলের পেছনে ছোটে এবং শেষ পর্যন্ত জার্মানিই সব সময় জেতে।’
আফ্রিকার দলটি লিনেকারের এই উক্তি টের পেল হাড়ে হাড়ে। ৩০ মিনিটে ফ্রাঙ্ক কেসির গোলে ৬৭ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে ছিল আইভরিকোস্ট। তারপর বদলি নামা ফরোয়ার্ড দেনিজ উনদাভের জোড়া গোলে শেষ পর্যন্ত জার্মানিই ম্যাচটি ২–১ গোলে জিতে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। ২০১৪ আসরের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউটে উঠল জার্মানি।
১২ বছর আগের সেই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জার্মানি। তারপর পরপর দুটি বিশ্বকাপে জার্মানি বাদ পড়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে।
আমাদ দিয়ালোদের জন্য ব্যাপারটা মর্মান্তিক। কারণ, ৬৮ মিনিটে উনদাভের প্রথম গোলে সমতায় ছিল দুই দল। ম্যাচটি সেভাবে শেষ হলে এক পয়েন্ট পেতে পারত আইভরিকোস্ট। কিন্তু যোগ করা সময়ের চতুর্থ (৯৪) মিনিটে উনদাভের দ্বিতীয় গোলে সেই আশাও শেষ হয়ে যায় তাদের।
আইভরিকোস্ট অধিনায়ক কেসির বক্সের ভেতর থেকে করা গোলে পিছিয়ে পড়ে জার্মানি। সমতাসূচক গোল পেতে মরিয়া জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগলসমান বদলি খেলোয়াড় নামিয়ে রক্ষা করেন চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
৬০ মিনিটে তিন খেলোয়াড় বদলি করেন নাগলসমান—আলেক্সান্ডার প্যাবলোভিচের জায়গায় নাদিম আমিরি, লিরয় সানের জায়গায় জেমি লেভেলিং এবং মুসিয়ালার জায়গায় উনদাভ। আমিরি ও উনদাভ সরাসরি জার্মানির জয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখেন। উনদাভের প্রথম গোলটির পাসদাতা আমিরি।
দ্বিতীয়ার্ধে শুরুর দিকে মুসিয়ালার ফাউলের কারণে জার্মান তারকা কাই হাভার্টজের গোল বাতিল হয়। আইভরিকোস্টও দুই অর্ধে গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে। বিশেষ করে ৮৮ মিনিটে জার্মানির বক্সের ভেতরে বল পেয়ে তাদের ফরোয়ার্ড সাইমন আদিংনা কেন শট নিলেন না, সেই প্রশ্ন উঠবে। পরিষ্কার গোলের সুযোগ ছিল আইভরিকোস্টের।
তবে আগে গোল করে জার্মানিকে আসলেই ভয় পাইয়ে দিয়েছিল আইভরিকোস্ট। এই ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে সর্বশেষ যে ১০ ম্যাচে জার্মানি আগে গোল হজম করেছে, তার মধ্যে জিতেছে মাত্র একটি। এ পরিংখ্যানই বলছিল, ম্যাচটি জেতা কঠিন হবে জার্মানির জন্য। তবে নাগলসমানের দল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল না ছাড়ায় ৩ পয়েন্ট তুলে নিতে পেরেছে।

