নয়াদিল্লি : দিল্লির বিবেক বিহারের একটি বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। রবিবার ভোরে আগুন লাগার সময় অধিকাংশ বাসিন্দাই ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। স্থানীয়দের তৎপরতায় বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বহু মানুষ আগুনের মধ্যে আটকে পড়েন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন—“বিবেক বিহারের একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। এই দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে এবং তাঁদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। এই শোকের মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতি আমার সমবেদনা রইল। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁদের এই কঠিন সময় মোকাবিলার শক্তি দেন।”
তিনি আরও লিখেছেন—“স্থানীয় প্রশাসনের সমস্ত শীর্ষ আধিকারিক, দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ডিডিএমএ), দমকল বাহিনী এবং দিল্লি পুলিশ ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে দ্রুততার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্থানীয় বিধায়ক ও পুরসভার কাউন্সিলররাও ত্রাণকার্যে সহায়তা করছেন। এই কঠিন সময়ে দিল্লি সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, রবিবার শাহদারার বিবেক বিহারে চারতলা একটি ভবনে আগুন লাগে। স্থানীয় বাসিন্দা রোহিত জানান, এসিতে বিস্ফোরণের জেরে আগুন লাগে বলে তাঁর অনুমান। প্রায় ১২-১৫ জনকে উদ্ধার করা হলেও কয়েকজন নিখোঁজ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। দমকল বাহিনী ভোর সাড়ে তিনটার কিছু পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকাজ চলাকালীন ১০-১৫ জনকে বের করে আনা হয়, যাদের মধ্যে দু’জনকে গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় কাউন্সিলর পঙ্কজ লুথরা জানান, ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে একাধিক দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অধিকাংশ দেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।
অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক সঞ্জয় গোয়েল বলেন, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, যদিও এসি বিস্ফোরণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

