কন্যা জন্মানোয় আনন্দে মাতলেন পরিবারের সবাই, গ্রামে মিষ্টিমুখ

নিজস্ব প্রতিবেদন, আউশগ্রাম: কন্যাভ্রুণ হত্যা রুখতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে নানা ভাবে প্রচার করতে দেখা যায়। কখনও টিভিতে কখনও আবার পথ নাটকের মাধ্যমে প্রচার করতে দেখা গেলেও, কন্যাভ্রুণ হত্যা রুখতে বর্তমানে কেন্দ্র সরকার ‘বেটি বাঁচাও ও বেটি পড়াও’ ও রাজ্য সরকার ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এবার কন্যাভ্রুণ হত্যা রুখতে ও কন্যাসন্তান যে ফেলনা নয়, সেই বার্তা দিতেই অভিনব উদ্যোগ নিতে দেখা গেল পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম দু’ নম্বর ব্লকের দেবশালা গ্রাম পঞ্চায়েতের ধানতোর গ্রামের মণ্ডল পরিবারকে।
তিন পুরুষ পর এই পরিবারে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। তাই কন্যাসন্তানকে নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন পরিবারের আট থেকে আশি সকলেই। রীতিমতো ব্যান্ড পার্টি সঙ্গে নিয়ে বাজনা বাজিয়ে ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে করে কন্যাসন্তানকে বাড়ি নিয়ে এলেন পরিবারের সদস্যরা। এখানেই শেষ নয়, গোটা গ্রামের মানুষকে এদিন কন্যাসন্তান হওয়ার খুশিতে মিষ্টি মুখ করানো হয়।
জানা গিয়েছে, গ্রামের বাসিন্দা স্বর্গীয় সুকুমার মণ্ডল ছিলেন তাঁর বাবার একমাত্র সন্তান। স্বর্গীয় সুকুমার মণ্ডলেরও কোনও কন্যাসন্তান ছিল না। ছিল তিন পুত্র। পরবর্তী প্রজন্মেও কোনও কন্যাসন্তান জন্মায়নি পরিবারে। অবশেষে ৩ পুরুষ পেরিয়ে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয় গত ৫দিন আগে। পরিবারে কন্যাসন্তান জন্ম হওয়ায় তাকে দেবী লক্ষী রূপে বরণ করে বাড়িতে প্রবেশ করানো হয়। সুকুমার মণ্ডলের ছেলে কাজল মণ্ডল জানিয়েছেন, টিভিতে ও পেপারে অনেক সময় শোনা যায় মেয়েরা কী ভাবে অবহেলিত হয় ও তাদের ওপর নির্যাতন হয়। যাতে সমাজে নারীদের দেবী রূপে দেখা হয় ও নারী নির্যাতন বন্ধ হয় সেই জন্যই সমাজকে বার্তা দিতেই তাঁর নাতনি ইভিকা মণ্ডলকে নিয়ে ব্যান্ড পার্টি নিয়ে বাজনা বাজিয়ে ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে করে গোটা গ্রাম প্রদক্ষিণ করে সকল গ্রামের মানুষকে মিষ্টিমুখ করিয়ে বরণ করে ঘরে তোলা হয়েছে।
শুধু গ্রামের মানুষ না, সমাজের প্রত্যেকটা স্তরের মানুষ যেন কন্যাসন্তানদের অবহেলা না করে। তাদের আনন্দের সঙ্গে ঘরে তোলে সেই বার্তাই দিয়েছেন। মেয়েকে পেয়ে খুশি ছোট্ট ইভিকার বাবা রণিত মণ্ডল ও মা শিল্পা মণ্ডল। তাঁরা জানিয়েছেন, পরিবারে একটা মেয়ে থাকার কতটা প্রয়োজন ছিল, সেটা এতদিন সবাই বুঝতে পেরেছে। পরিবারে যেমন এতদিন না ভাইফোঁটা, না রাখি উৎসব পালন করা হত। তবে এবার সব অনুষ্ঠান হবে। মেয়েকে নিয়ে তাঁদের অনেক স্বপ্ন রয়েছে। সেগুলি কী ভাবে পূরণ হবে, তারই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *