চার-পাঁচ দশকের লড়াইয়ের অবসান, দেশ এখন নকশাল থেকে মুক্ত : প্রধানমন্ত্রী

বস্তার : দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ দশকের রক্তক্ষয়ী মাওবাদী সন্ত্রাসের কালো অন্ধকার মুছে সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়া বস্তারের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশের সুরক্ষাবাহিনীর সঙ্গে আলোর উৎসব দীপাবলি উদ্যাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার ছত্তিশগড়ের বস্তারের করণপুরে অবস্থিত সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) বিশেষ কমান্ডো বাহিনী ‘কোবরা’-র অপারেশনাল ঘাঁটিতে পৌঁছন তিনি। একদা মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি ও শীর্ষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত সেই ঐতিহাসিক ভূমিতে দাঁড়িয়ে জওয়ানদের মিষ্টিমুখ করিয়ে বীর সেনানীদের অদম্য ত্যাগকে কুর্নিশ জানান প্রধানমন্ত্রী।

করণপুরের এই বিশেষ কোবরা ঘাঁটিটি বস্তার ও অবুঝমাড়ের গভীর জঙ্গলে নকশালবিরোধী সফল অভিযানের অন্যতম প্রধান লঞ্চ প্যাড এবং রণকৌশল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছিল। সেখানে মোতায়েন নিরাপত্তা কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা প্রত্যেকে আমার পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতি বছরের মতো এবারও আমি জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করতে সরাসরি বস্তারের গভীর অরণ্যভূমিতে এসেছি। এটি এমন এক ভূমি, যা একসময় নকশাল সন্ত্রাসের ভয়াবহ আতঙ্কে নিমজ্জিত ছিল। কিন্তু আপনাদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ, বীরত্ব এবং অটল নিষ্ঠার ফলেই আজ এই বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে নকশালবাদের কালো ছায়া চিরতরে দূরীভূত হয়েছে এবং সূচিত হয়েছে উন্নয়নের নতুন জোয়ার।”

নকশালবাদ দমনে ঐতিহাসিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আবেগঘন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “২০২৬ সালের এই দীপাবলি প্রকৃত অর্থেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক। বিগত ৪০ থেকে ৫০ বছরের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আজ আপনাদের জীবনে এবং গোটা জাতির জীবনে এমন এক অনন্য দীপাবলি এসেছে। দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম দীপাবলি, যখন ভারত নকশাল ও মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘ কয়েক দশকের লড়াইয়ে চূড়ান্ত জয়লাভ করেছে। এটিই প্রথম দীপাবলি, যখন দেশের প্রতিটি জেলা নকশালমুক্ত হিসেবে আলোর উৎসবে মেতে উঠেছে। কোটি কোটি দেশবাসী দীর্ঘ কয়েক দশক পর নকশালবাদের ভয় ও আতঙ্ক থেকে চিরতরে মুক্ত হয়ে আজ নিঃশঙ্কচিত্তে এই মহোৎসব পালন করছেন।”

এই অভাবনীয় অর্জনের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব সশস্ত্র বাহিনীর ওপর অর্পণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি এক অসামান্য ও অবিস্মরণীয় ঐতিহাসিক সাফল্য। এই অভাবনীয় অর্জনের সিংহভাগ কৃতিত্ব প্রাপ্য আপনাদের মতো লক্ষ লক্ষ বীর জওয়ান ও সমস্ত নিরাপত্তা বাহিনীর।

আপনাদের সাহস ও দেশপ্রেমের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে এবং সেই অসীম ত্যাগকে স্যালুট করতেই আজ আমি সরাসরি আপনাদের মাঝখানে এই ঐতিহাসিক দীপাবলি উদযাপন করতে এসেছি।” প্রধানমন্ত্রীর এই উপস্থিতিতে বস্তারের জওয়ানদের মধ্যে উৎসবের আবহে এক নজিরবিহীন উদ্দীপনা ও গর্বের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × five =