ডার্বি হারের ক্ষতে প্রলেপ আট গোল

ইস্টবেঙ্গল: ৮ [বিষ্ণু (হ্যাটট্রিক), জেসিন (২) খালিদ (আত্মঘাতী), জিকসন, বিপিন]
সিআইএসএফ: ০
নিজস্ব প্রতিবেদন: ডার্বি হারের ক্ষতে প্রলেপ ইস্টবেঙ্গলের। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচ হেরে ডুরান্ড অভিযান শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই ভুল শুধরে এদিন চেনা ছন্দে ফিরল হাবাস বাহিনী। গত কয়েকদিনের অনুশীলনে ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে মাঠে দল নামিয়েছিলেন স্প্যানিশ কোচ। শুক্রবার সেনাবাহিনীর দল সিআইএসএফ এর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একাধিক পরিবর্তন করে নেমেছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। যা কাজে দিল, ম্যাচের ফলাফল ৮-০ গোলে ইস্টবেঙ্গলের জয়। এই ম্যাচে তিন পয়েন্টের পাশাপাশি বড় ব্যবধানে জিততে হত ইস্টবেঙ্গলকে। দু’টি ক্ষেত্রেই সফল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের ছেলেরা।
শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলেন বিষ্ণুরা। সর্বভারতীয় পুলিশ গেমসের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সিআইএসএফ জমাট রক্ষণ বেধে ম্যাচে নেমেছিল। ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ আটকানোয় যদিও ব্যর্থ তারা।প্রথমার্ধেই তিন গোল করে এগিয়ে যায় মশা ব্রিগেড। ৬ মিনিটে এডমুন্ডের শট ব্লক। খানিক পর হার্দিকের ক্রসও বিপদমুক্ত করে সিআইএসএফের রক্ষণ। ১৩ মিনিটে ফের সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল, এডমুন্ডের শট শরীর ছুড়ে দিয়ে আটকে দেন যতীন্দর। ২৯ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে গোলের সুযোগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের। দানি রামিরেসের নেওয়া ফ্রি-কিক অবশ্য দুরন্ত দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন সিআইএসএফ গোলরক্ষক রাজ মাথুর। পর মূহুর্তেই রশিদের শট আটকে দেন রাজ। ৩৮ মিনিটে প্রথম গোল পেয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। বক্সের মধ্যে এডমুন্ডের কাটব্যাক, সামনে পিভি বিষ্ণু ছিলেন। এক মুহূর্ত দেরি না করে ব্যাকহিলে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। ৪২ মিনিটে বাঁ-দিক থেকে বিষ্ণুর নিচু ক্রস সিআইএসএফ অধিনায়ক খালিদের গায়ে লেগে বলের দিক বদলে যায়। এরপর রাজকে ছুঁয়ে বল জালে। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়েই ম্যাচের তৃতীয় গোল করেন জিকসন। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। বাঁ-প্রান্ত থেকে সন্দীপ মাণ্ডির ক্রস থেকে দুরন্ত ওভারহেড কিকে বল জালে জড়িয়ে দেন বিষ্ণু। ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন তিনি। ৬৪ মিনিটে ডানদিক থেকে ভেসে আসা নিখুঁত ক্রসে গোল করে স্কোরলাইন ৫-০ করেন বিপিন সিং। ৭০ মিনিটে ডান দিক থেকে পাওয়া দুর্দান্ত থ্রু বল ধরে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিচু শটে গোল করেন জেসিন টিকে। ৭৩ মিনিট আবারও রাজ মাথুরকে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের সপ্তম গোলটি করেন জেসিন। ঠিক দু’মিনিট পর বিপিন সিংয়ের নিখুঁত ক্রস থেকে সহজই বল জালে জড়িয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বিষ্ণু। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে হারের ফলে হেড-টু-হেড রেকর্ডে এখনও পিছিয়ে ইস্টবেঙ্গল। ফলে গ্রুপ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সেই সাউথ ইউনাইটেডের বিরুদ্ধেই নামবে হাবাস বাহিনী ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × three =