কলকাতা : কলকাতার তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ‘ভিআরএম বিজনেস সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং তার অধিকর্তা রাজেশ গোয়েঙ্কা সহ অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন, ২০০২-এর অধীনে বিশেষ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি)। শনিবার জারি করা এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থার অফিস চত্বর থেকে বেআইনি কল সেন্টার চালিয়ে বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি করা হয়েছিল।
ইডি শুক্রবার তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, এর আগে তদন্ত চলাকালীন ২.৩৫ কোটি টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পত্তি এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত ও ফ্রিজ করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি, ১১.১৪ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তিও সাময়িকভাবে ক্রোক করা হয়।
তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স বিধাননগর থানায় দায়ের করা একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে এই মামলার তদন্ত শুরু হয়েছিল। অভিযোগে জানানো হয়েছিল, রাজেশ গোয়েঙ্কা এবং অন্যান্য অভিযুক্তরা নামী পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধি সেজে বিদেশি গ্রাহকদের ফোন করতেন। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো, কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো পরিষেবা দেওয়া হতো না।
ইডির তদন্তে উঠে এসেছে যে, ‘ভিআরএম বিজনেস সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং তার অধিকর্তা রাজেশ গোয়েঙ্কা বেআইনি কল সেন্টার চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো সরবরাহ করেছিলেন। সেখান থেকে পরিচালিত কল সেন্টারের কর্মীরা সফ্টওয়্যার পরিষেবা দেওয়ার নামে বিদেশি নাগরিকদের সাথে প্রতারণা করতেন।
সংস্থার দাবি, অভিযুক্ত কোম্পানি এবং তার অধিকর্তারা বিদেশি নাগরিকদের ঠকিয়ে কম করে ২০.৩৫ কোটি টাকা আয় করেছিলেন। এই টাকা গয়না কেনা, স্থাবর সম্পত্তি অর্জন সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। তদন্তে রাজেশ গোয়েঙ্কা এবং তাঁর কোম্পানিকে এই অপরাধের মূল সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি কল সেন্টারের অপারেটর এবং কর্মীরাও এই বেআইনি উপার্জনের অংশীদার ছিলেন।
ইডি আরও জানিয়েছে, রাজেশ গোয়েঙ্কার ছত্রছায়ায় পরিচালিত এই বেআইনি চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিদেশি নাগরিকদের নিশানা করত। অভিযুক্তরা নামী বহুজাতিক সংস্থার প্রতিনিধি সেজে ইন্টারনেট-ভিত্তিক টেলিফোন পরিষেবার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের সাথে যোগাযোগ করতেন।
এরপর ভুয়ো অজুহাতে তাঁদের ভয় দেখিয়ে গিফট ভাউচার, প্রযুক্তিগত সহায়তা বা সাবস্ক্রিপশন বাতিলের মতো অস্তিত্বহীন পরিষেবার নামে টাকা দিতে বাধ্য করতেন। এর ফলে বিদেশি নাগরিকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন এবং অভিযুক্তরা বেআইনিভাবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

