২২ বছরের শাপমুক্তি, আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল

কাটল ২২ বছরের খরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। বৃহস্পতিবার আইএসএলের শেষ ম্যাচে ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে হারাল অস্কার ব্রুঁজোর দল। কিশোর ভারতীর সবুজ গালিচা লাল-হলুদ রঙে রাঙায়িত। গোল করলেন ইউসেফ এজ্জেজ্জারি ও মহম্মদ রশিদ। আনন্দে ভাসল ইস্টবেঙ্গল গ্যালারির সমর্থকরা। কিশোর ভারতীর ব্যালকনিতে ট্রফি তুলল ইমামি ইস্টবেঙ্গল।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্যঅবশ্য একধিক মিস করছিল ইস্টবেঙ্গল। রশিদ-তেকাঠির সামনে যেন ফিনিশিংই করতে পারছিলেন না। ম্যাচ শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে মুহুর্মুহু আক্রমণ শানিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। মিগুয়েলের অসাধারণ ব্যাকভলি করেন। শট জোরাল না হওয়ায় তা ইন্টার কাশীর গোলকিপার বাঁচিয়ে দেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফের গোলের সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। ইস্টবেঙ্গলর একপ্রকার আটকে রাখছিলঅভিজিৎ মণ্ডলের ছেলেরা। এদিকে কাউন্টার এল ম্যাচের ১৫ মিনিটে। কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করল ইন্টার কাশী। মাঝ মাঠ থেকে ধেয়ে আসা পাসে অসাধারণ ভলি মারলেন আলফ্রেড। বিরতির ঠিক আগেই আবারও গোল করার সুযোগ ছিল ইন্টার কাশীর কাছে। তবে লাল-হলুদ গোলকিপার প্রভসুখন গিলের দক্ষতায় বেঁচে যায় ইস্টবেঙ্গল। প্রথমার্ধে ০-১ পিছিয়ে ইস্টবেঙ্গল। যুবভারতীর মোহনবাগান গ্যালারিতে তখন উচ্ছ্বাস। এদিকে ৫০ মিনিটের মাথায় সমতা ফেরাল ইস্টবেঙ্গল। গোল করলেন এজ্জেজারি। মাঝমাঠ থেকে আনোয়ারের ভাসানো বল ধরতে ইন্টার কাশীর অফসাইড ফাঁদকে বোকা বানান ইউসেফ। কাশীর গোলকিপার শুভমকে নাটমেগ করেন। তারপর কাশীর আরেক ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে গোল করেন। খেলার ফলাফল ১-১। তবে লিগজয় করতে হলে ম্যাচ জিততে হবে ইস্টবেঙ্গলকে। এরপর ফের কোনও রকমে বাঁচল ইস্টবেঙ্গল ইন্টার কাশীর হাওবামের কাছে গোল সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ চলে এসেছিল। কর্নার বাঁচাতে গিয়ে গিল বল ভিতরে নিয়ে এসেছিলেন। যেখান থেকে গোল করতে পারতেন হাওবাম। কিন্তু তিনি সাইড নেটে বল মারেন। অনায়াসে ব্যবধান বাড়তে পারতেন কাশীর রোহিত দানু। কিন্তু এবারও কোনও মতে বাঁচল ইস্টবেঙ্গল।
ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশ
প্রভসুখন গিল, আনোয়ার আলি, কেভিন সিবিলে, মহম্মদ রাকিপ, জয় গুপ্তা, মহম্মদ রশিদ, জিকসন সিং, মিগুয়েল ফিগুয়েরা, বিপিং সিং, পিভি বিষ্ণু, ইউসেফ এজ্জেজারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven + 2 =