পিছিয়ে পড়া ইস্টবেঙ্গল বরাবরই ভয়ঙ্কর। আবারও সেটাই প্রমাণ হল। বৃহস্পতিবার যুবভারতীতে তিনবার পিছিয়ে থাকার পর বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে ৩-৩ গোলে ড্র করল ইস্টবেঙ্গল। ১০ জনের লাল-হলুদ ব্রিগেড দুর্দান্ত লড়াই দিয়ে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিল। এর ফলে খেতাবের দৌড়ে আরও কিছুটা এগিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। এই ড্রয়ের ফলে আট ম্যাচ খেলে গোল পার্থক্যের বিচারে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ১৫ পয়েন্ট পাওয়া ইস্টবেঙ্গল, এবং এক ম্যাচ বেশি খেলে সমান পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেঙ্গালুরু। তবে ম্যাচের পরও রেফারিং নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ইস্টবেঙ্গল। তবে খেলার বিপরীতে গিয়ে প্রতি আক্রমণ থেকে ১২ মিনিটে কুজিয়েভের পাস থেকে আশিক কুরুনিয়ানের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু। ২১ মিনিটে মিগুয়েলের কর্নার থেকে ব্যাকভলিতে দুর্ধর্ষ গোল করেন আনোয়ার আলি। ম্যাচ শেষে ইস্টবেঙ্গল প্রাক্তনী বিকাশ পাঁজি বলে গেলেন, ‘আনোয়ারকম আলি শ্যাম থাপার কথা মনে করিয়ে দিল।’ প্রথমার্ধ চলাকালীনই উত্তপ্ত পরিস্থিতি যুবভারতীতে। প্রথমে রায়ান উইলিয়ামস এডমুন্ডকে ফাউল করেন। এডমুন্ড লালরিনডিকা রেফারির কাছে আবেদন করলে তাকেই হলুদ কার্ড দেখতে হয়। এরপরই বিপিন ফাউল করেন বেঙ্গালুরুর রোশনকে। রেফারি ফাউল নির্দেশ দেওয়ার পরেও কিছুটা ইচ্ছাকৃত ভাবে বলে শট মারেন মিগুয়েল। তারপরই শুরু হয় সংঘর্ষ। ডাগআউটের কাছে বচসায় জড়িয়ে পড়ায় মিগুয়েলকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। মিগুয়েলকে কড়া ভাষায় বিদ্রুপ করেছেন বেঙ্গালুরুর সহকারী কোচ। ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুঁজো পরে বিষয়টি পরিস্কার করেন। তিনি বলেন, “বেঙ্গালুরুর সহকারী কোচ তাকে ‘ভিয়াদো’ (viado) বলে ডাকে… পর্তুগিজ ভাষায় এর অর্থ সমকামী। তাই মিগুয়েল প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং সে বিপক্ষ খেলোয়াড়কে ধাক্কা দেয়।”
এরপর ৩৯ মিনিটে রায়ানের ক্রস গিলের হাতে, ফিরতি বলে গোল করলেন সুরেশ। ৫৫ মিনিটে সউল ক্রেস্পোর গোলে ২-২ সমতায় ফিরল ইস্টবেঙ্গল। প্রথমে সউলের শট নেন বাঁচিয়ে দেন বেঙ্গালুরুর গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধু। ফিরতি বলে সউলের শট জালে চিঙ্গেলসানার পায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। ৭২ মিনিটে রায়ান উইলিয়ামসের গোলে ৩-২ এগিয়ে গেল বেঙ্গালুরু। ম্যাচের একেবারে শেষ মূহুর্তে পরিবর্ত হিসেবে নামা অ্যান্টন সজবার্গের গোলে সমতায় ফেরে ইস্টবেঙ্গল।
অন্যদিকে মিগুয়েলের লাল কার্ডের শাস্তি কমাতে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের কাছে সরকারিভাবে আবেদন করল ইমামি ইস্টবেঙ্গল এফসি। মিগুয়েলের লাল কার্ডের শাস্তি কমাতে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের কাছে সরকারিভাবে আবেদন করল ইমামি ইস্টবেঙ্গল এফসি। তবে সমস্যা একটায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়ে বেরোনোর সময় বেঙ্গালুরু ডাগআউটের দিকে উদ্দেশ্য করে বলে শট মারেন মিগুয়েল। এর ফলে আরও বেশি ম্যাচ সাসপেন্ড হতে পারেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে ইস্টবেঙ্গল কোচ আরও বলেন, “যদি ব্রায়ান স্যাঞ্চেজের লাল কার্ড গতকাল প্রত্যাহার করা হয়ে থাকে, তবে মিগুয়েলের লাল কার্ডও অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হবে।”
ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, “আমার এই ম্যাচ কি আর ফিরিয়ে দিতে পারবে? দিনের পর দিনই এইরকম খারাপ রেফারিং হচ্ছে। আগে রিলায়েন্স দায়িত্বে ছিল তখনই এক, এখন এআইএফএফ লিগ চালাচ্ছে তখনও এক। রেফারির ভুলে বছরের পর বছর আমরাই কেন ভুগব?”

