এশিয়ান গেমসে ভারতের রোয়িং দল পদক জিতলেও শেষ মুহূর্তে দল ও ইভেন্টের সমন্বয় বদল ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। পুরুষদের ডাবল স্কালসে ব্রোঞ্জ জেতা সাতনাম সিং ও সলমন খান জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতার ঠিক আগে দলবদলের সিদ্ধান্ত তাঁদের প্রস্তুতি এবং পদকের সম্ভাবনায় প্রভাব ফেলেছিল। এমনকি অংশ নিতে অস্বীকার করলে তাঁদের ‘দেশবিরোধী’ বলা হতে পারে— এই আশঙ্কাও ছিল বলে দাবি সাতনামের।
ঘটনার সূত্রপাত আবহাওয়াজনিত সমস্যায়। টাইফুনের প্রভাবে রোয়িংয়ের সূচি চার দিন থেকে কমিয়ে দু’দিন করা হয়। ফলে ভারতীয় দলের কোচেরা বিভিন্ন ইভেন্টে খেলোয়াড়দের নতুন করে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেন। একক স্কালসে নামার কথা ছিল অরবিন্দ সিংয়ের, তাঁকে পাঠানো হয় চারজনের দলে। অন্যদিকে বালরাজ পানওয়ারকে চারজনের দল থেকে সরিয়ে একক স্কালসে নামানো হয়।
পুরুষদের পেয়ার ইভেন্টেও বদল আসে। সৌরভ কুমার ও বিপুল সতীশের জায়গায় নীতিন কুমার ও যশবিন্দর সিংকে নেওয়ার পরিকল্পনা হয়। রিজার্ভ তালিকায় থাকা জসমাইল সিংকেও চারজনের দলে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। ডাবল স্কালস থেকে নবদীপ সিং ও কুলবিন্দর সিংকে সরিয়ে চারজনের দলে পাঠানো হয়।
শেষ মুহূর্তের এই পরিবর্তনে দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এক রোয়ারের দাবি, কয়েকজন খেলোয়াড় এতটাই মানসিক চাপে ছিলেন যে তাঁরা খাওয়াদাওয়াও করেননি। দলের পরিস্থিতি নিয়ে এক আধিকারিকও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, রোয়িং ফেডারেশনের সভাপতি বালাজি মারাদাপার বক্তব্য, সূচি বদলে যাওয়ার পর দলের স্বার্থেই কোচেরা নতুন সমন্বয় তৈরি করেছিলেন। তাঁর দাবি, প্রাক্তন এক কোচ খেলোয়াড়দের প্রভাবিত করছিলেন।
তবে ফেডারেশনের ব্যাখ্যায় বিতর্ক থামেনি। সাতনাম ও সলমনের মতে, শেষ মুহূর্তের পরিবর্তন তাঁদের সোনার পদকের লড়াইয়ে প্রভাব ফেলেছে। ফলে ব্রোঞ্জ জয়ের সাফল্যের মধ্যেও রয়ে গিয়েছে আক্ষেপ— যে সুযোগ হয়তো আরও বড় পদক এনে দিতে পারত, তা কি শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তেই হাতছাড়া হল?

