নয়াদিল্লি : সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষায় ছাত্র সংগঠন এবং দেশের যুবসমাজকে শান্তিপূর্ণভাবে পথে নেমে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। রবিবার দিল্লির প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনের গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
সিজেপি মুখপাত্রদের অভিযোগ, শনিবারের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিকে কার্যত সেনাছাউনিতে পরিণত করা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, দেশে ১৯৭৫ সালের মতো অঘোষিত জরুরি অবস্থার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।
সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পরই কোনও বৈধ নথি বা গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই তাঁকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও অভিজিৎ দীপকেকে জোর করে বিমান থেকে নামিয়ে হেফাজতে নেয় দিল্লি পুলিশ। তাঁদের ফোন বাজেয়াপ্ত করা হলেও আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বাজেয়াপ্ত দ্রব্যের তালিকা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। হেফাজতে থাকাকালীন তাঁদের ডিজিটাল যন্ত্রে কারচুপি বা তথ্য ঢুকিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন দাস। পাশাপাশি, আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের মৌলিক অধিকার থেকেও তাঁদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) ও বিচারব্যবস্থার নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাস আদালতের কাছে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি বিবেচনার দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করা এবং ব্যবস্থাগত ত্রুটি আড়াল করতেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। দেশের বিপুল সংখ্যক ভোটারের অধিকার উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিশেষ করে যুব ও জেন-জি ভোটারদের অধিকার খর্ব করার অভিযোগ তোলেন দাস।
অন্যদিকে, আশুতোষ রাঙ্কার দাবি, শনিবার সীমান্তবর্তী ও নকশালপ্রভাবিত এলাকা থেকে বিএসএফ-সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের এনে ৪০ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ৫৭টি মেট্রো স্টেশন, আন্তঃরাজ্য রেল পরিষেবা এবং রাজধানী-সহ গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের চলাচল ব্যাহত করা হয়। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও ব্যবসায়িক কার্যকলাপে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করে আন্দোলনের বিরুদ্ধে পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাঙ্কা আরও অভিযোগ করেন, গুরুদ্বারা বাংলা সাহিবে আশ্রয় নেওয়া বিক্ষোভকারীদের বের করে দিতে গিয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা ধর্মীয় মর্যাদা লঙ্ঘন করেছেন। পাশাপাশি, সিজেপির মুম্বই সমন্বয়ক প্রণয়কে হেফাজতে নিয়ে তাঁর উপর অত্যাচার ও হিংসা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

