রাতের অন্ধকারে বালি পাচারের অভিযোগ, পাণ্ডবেশ্বরে স্থানীয়দের তৎপরতায় আটক ১০টি ট্রাক

দুর্গাপুর : বর্ষার মরশুমে নদীগর্ভে বালি উত্তোলনে কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকে। আর ওই নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে রাতের অন্ধকার অবাধে চলছে অজয় নদ থেকে ট্রাক্টরে করে বালি উত্তোলন। আবার মজুত বালি চলছে অন্য জেলার চালান দিয়ে। রাতের অন্ধকারে বালি মাফিয়াদের বাড়বাড়ন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া বার্তা দিলেন বিধায়ক জিতেন্দ্রর তেওয়ারী। বিধায়ক সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দাবি করেন,পাণ্ডবেশ্বরে জেগে উঠল জনতা! বালি পাচারের অভিযোগে ১০টি ট্রাক ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয়রা। যদিও, বালি পাচারে অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছে শাসকদলের দিকে। প্রশ্ন উঠেছে, ভুমি রাজস্ব দফতরের ভূমিকায়।

প্রসঙ্গত, বর্ষাকালে নদীর বুক থেকে বালি তোলার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকে। প্রত্যেক জেলায় জুলাই মাসে মিটিং করে সিদ্ধান্ত হয়, অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত নদীতে বালি তোলা থেকে বিরত থাকার। কারণ এই সময় নরম মাটিতে ধস প্রবনতা ও দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। চলতি বছর বর্ষা মরশুমে গত জুলাই থেকে ওই নির্দেশিকা লাগু হয়েছে। ওই নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে কাঁকসার বনকাটি অঞ্চলের কোটালপুকুর, ডাঙালে রাতের অন্ধকারে রমরমিয়ে চলছে বালি উত্তোলন। ৩০-৪০ টি ট্রাক্টর রাতভর বালি পাচার করছে বলে অভিযোগ। লোকালয়ে আবাস যোজনার নাম করে ওয়েট ব্রিজ কাটাতে মজুত চলছে। সেখান থেকে লরি ডাম্পারে করে পাচার হচ্ছে। দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের মাধাইপুরে অজয় নদী থেকে একইরকমভাবে রাতের অন্ধকারে ট্রাক্টরে বালি বালি পাচার হচ্ছে। ২৫-৩০ ট্রাক্টর অবৈধ ভাবে ওই বালি পাচার করছে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি চালান বীরভূমের, অথচ পশ্চিম বর্ধমানের অজয় নদরে ঘাট থেকে বালি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার দুর্গাপুর ফরিদপুরের মাধাইপুর ও পাণ্ডবেশ্বর একাধিক ঘাট থেকে বালি তুলে পাচার করা হচ্ছিল। রাতের অন্ধকারে এলাকাবাসীর নজর এড়াতে বালি পাচার করা হচ্ছে। এই খবর পেয়ে পাণ্ডবেশ্বরের ফুলবাগান মোড়ে এমনই ‘ভুয়ো’ চালান নিয়ে যাওয়ার সময়ে বালিবোঝাই আটটি ট্রাক ও ট্রেলার আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাঁরা সেগুলিকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভুয়ো চালান দিয়ে বালি পাচার করা হলেও প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। প্রায় এক মাস আগে একই ভাবে ভুয়ো চালান দিয়ে বালি পাচারের সময়ে তিনটি ট্রাক আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু ভুয়ো চালান দেখার পরেও পুলিশ তিনটি ট্রাককেই ছেড়ে দিয়েছিল। তবে আটক আটটি ট্রাককে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হয় বিএলআরও তরফে। জানা গেছে, গাড়ি গুলিতে সাঁইথিয়ার চালান ছিল। কিন্তু বালি লোড হয়েছিল মাধাইপুর থেকে।

কংগ্রেস নেতা দেবেশ চক্রবর্তী অভিযোগ করে বলেন ,” আগে তৃণমূল নেতারা বালি চালাতো। এখন বিজেপির নেতারা চালাচ্ছে। শাসকদলের মদতেই অবৈধ বালি পাচার চলছে।” যদিও বিষয়টি পাণ্ডবেশ্বরে বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারির নজরে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সরব হয়। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, “পাণ্ডবেশ্বরে জেগে উঠল জনতা! বালি পাচারের অভিযোগে ১০টি ট্রাক ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয়রা। বীরভূমের চালান নিয়ে বালি পরিবহণের অভিযোগ, স্থানীয়দের তৎপরতায় আটক ১০টি ট্রাক! পাণ্ডবেশ্বরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব স্থানীয় বাসিন্দারা! বালি পরিবহণে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই সক্রিয় হন এলাকার মানুষ। তাঁদের তৎপরতায় ১০টি ট্রাক আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, বীরভূমের চালান নিয়ে বালি পরিবহণ করা হচ্ছিল।” তবে প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × five =