মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম জেলা সফর, প্রশাসনিক বৈঠক করলেন পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে

ডায়মন্ড হারবার  : ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠক ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শনিবার ডায়মন্ড হারবারের সাগরিকা লজে প্রশাসনিক বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক, পুলিশ কর্তারা এবং বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা। মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানান, সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা এবং প্রশাসনিক কাজে গতি আনা এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় রাস্তা, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যে পরিবর্তনের পর মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই আমাদের দায়িত্ব।” তিনি আরও জানান, প্রতিটি জেলার কাজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোথাও গাফিলতি পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডায়মন্ড হারবারকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। শিল্প, পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে আরও সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেন।

প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি এই সফরকে রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, ডায়মন্ড হারবার দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী শিবিরের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই জায়গা থেকেই প্রশাসনিক কর্মসূচি শুরু করে সরকার একপ্রকার বার্তা দিতে চেয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম দিকের জেলা সফরগুলির মধ্যে একটি। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় ডায়মন্ড হারবারের এই বৈঠককে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

রাজ্য পুলিশকে মুক্ত হাতে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশ কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়গুলি ও খতিয়ে দেখার বার্তা দেওয়া হয়েছে এদিনের বৈঠকে। পাশাপাশি পুলিশের যে ফেডারেশন রয়েছে সেটিকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এলাকায় কোন সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি সেগুলি কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − 1 =