মার্শ ঝড়ে উড়ে গেল চেন্নাই, ঘরের মাঠে সাত উইকেটে দাপুটে জয় লখনউয়ের

আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুর্দান্ত জয় তুলে নিল লখনউ সুপার জায়ান্টস। পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকে থাকা দলটি এদিন শক্তিশালী চেন্নাই সুপার কিংসকে হারিয়ে বড় চমক দিল। মিচেল মার্শের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে সাত উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় লখনউ। এই হারের ফলে প্লে-অফের লড়াইয়ে অনেকটাই চাপে পড়ে গেল চেন্নাই।
ম্যাচের আগে সমীকরণ ছিল খুব সহজ। লখনউকে হারাতে পারলেই প্রথম চারে উঠে আসত চেন্নাই। কিন্তু মাঠে নেমে সমস্ত হিসাব বদলে দেয় লখনউয়ের ক্রিকেটারেরা। একশো আটাশি রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাট করেন মিচেল মার্শ। মাঠের চারদিকে অনায়াসে বাউন্ডারি ও ছক্কা হাঁকাতে থাকেন তিনি। তাঁর সঙ্গে দুর্দান্ত সঙ্গ দেন জস ইংলিশ। একদিকে মার্শ যখন দ্রুত রান তুলছিলেন, অন্যদিকে শান্ত মাথায় ইনিংস গড়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ইংলিশ।
চেন্নাইয়ের বোলারেরা শুরু থেকেই চাপে পড়ে যান। স্পেনসার জনসন ও অংশুল কম্বোজদের বিরুদ্ধে সহজেই রান তুলতে থাকেন লখনউয়ের দুই ওপেনার। মাত্র সত্তর বলে দু’জনে মিলে একশো পঁয়ত্রিশ রানের বিশাল জুটি গড়ে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত মুকেশ চৌধুরী ইংলিশকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন। বত্রিশ বলে ছত্রিশ রান করে ফেরেন তিনি।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক মুহূর্ত আসে মার্শের আউট হওয়ার সময়। শতরানের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েও রান আউট হয়ে ফিরতে হয় তাঁকে। নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে কিছুটা এগিয়ে ছিলেন তিনি। সেই সময় নিকোলাস পুরানের ব্যাট থেকে মারা বল মুকেশ চৌধুরীর আঙুলে লেগে স্টাম্পে আঘাত করে। সামান্য দিক বদলেই মার্শের ইনিংস শেষ হয়ে যায়। মাত্র আটত্রিশ বলে নব্বই রান করে মাঠ ছাড়েন তিনি। দুরন্ত শতরান হাতছাড়া হলেও দলকে জয়ের রাস্তা দেখিয়ে যান অজি তারকা।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু করেছিল চেন্নাই। কার্তিক ধৈর্য ধরে ইনিংস সাজান। শর্ট বলের বিরুদ্ধে কিছুটা সমস্যায় পড়লেও স্পিনারদের বিরুদ্ধে ছিলেন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। শাহবাজ আহমেদের এক ওভারে দুটি চার ও দুটি ছক্কা হাঁকান তিনি। পরে পেসারদের বিরুদ্ধেও হাত খুলে খেলেন। ব্রেভিস পঁচিশ রান করে তাঁকে ভালো সঙ্গ দেন। কার্তিক পঁয়ত্রিশ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। শেষ দিকে শিবম দুবের অপরাজিত বত্রিশ রান এবং প্রশান্ত বীরের ছোট্ট ইনিংসের ভর করে লড়াই করার মতো রান তোলে চেন্নাই।
জবাবে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল লখনউ। পাওয়ার প্লেতেই উঠে যায় ছিয়াশি রান। পরে কয়েকটি দ্রুত উইকেট পড়ে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও নিকোলাস পুরান ও ঋষভ পন্থ ইনিংস সামলে নেন। শেষ দিকে অংশুল কম্বোজের এক ওভারে টানা চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ কার্যত শেষ করে দেন পুরান। সহজ জয় তুলে নিয়ে মাঠ ছাড়ে লখনউ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × one =