ধোনির সামনে চিপকে হার চেন্নাইয়ের, প্লে-অফ নিশ্চিত হায়দরাবাদের

চিপকে ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখতে পারল না চেন্নাই। দীর্ঘ দিন পর মহেন্দ্র সিংহ ধোনিকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন সমর্থকেরা, কিন্তু সেই আনন্দ ফিকে হয়ে গেল দলের হারে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে পাঁচ উইকেটে পরাস্ত হয়ে প্লে-অফের লড়াই আরও কঠিন হয়ে গেল চেন্নাইয়ের জন্য। অন্য দিকে এই জয়ে ১৬ পয়েন্টে পৌঁছে প্লে-অফ নিশ্চিত করে ফেলল হায়দরাবাদ। একই সঙ্গে গুজরাত টাইটান্সও শেষ চারে জায়গা পাকা করে নেয়। ফলে এখন শেষ একটি প্লে-অফ স্থানের জন্য পাঁচ দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। চেন্নাইয়ের এই হারে সুবিধা হয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্সেরও।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে চেন্নাই। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন সঞ্জু স্যামসন। নীতীশ রেড্ডির প্রথম ওভারেই ছক্কা ও দু’টি চার মেরে ১৭ রান তুলে নেন তিনি। পরের ওভারেও প্রফুল্ল হিঙ্গের বিরুদ্ধে টানা তিনটি চার মারেন। তবে প্যাট কামিন্স আক্রমণে আসতেই বদলে যায় ম্যাচের রং। তাঁর বল ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটকিপার ঈশান কিশনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন সঞ্জু।
এর পর উর্বিল পটেলও দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করছিলেন। কামিন্সকে পরপর দু’টি ছক্কা মারলেও সাকিব হুসেনের ধীরগতির বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। অন্য প্রান্তে রুতুরাজ গায়কোয়াড় অনেকটাই ধীর গতিতে ব্যাট করছিলেন। চাপের মধ্যেও বড় শট খেলার বদলে উইকেটে টিকে থাকার দিকেই বেশি মন দেন তিনি। কার্তিক শর্মার সঙ্গে তাঁর ৪২ রানের জুটি চেন্নাইকে কিছুটা স্থিরতা দেয়।
কার্তিক এ দিনও নিজের প্রতিভার ঝলক দেখান। প্রফুল্লের বিরুদ্ধে একটি দৃষ্টিনন্দন চার ও শিবং কুমারের বলে ছক্কা মেরে রান বাড়াচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু কামিন্স দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে এসে তাঁকেও ফিরিয়ে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেরেন রুতুরাজও। শেষ দিকে ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ঝোড়ো ৪৪ রানের ইনিংস খেলায় চেন্নাই পৌঁছে যায় ১৮০/৭-এ। কামিন্স চার ওভারে ২৮ রান দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন।
জবাবে শুরু থেকেই কিছুটা ধীরে খেলছিল হায়দরাবাদও। চিপকের মন্থর পিচে রান তুলতে সমস্যা হচ্ছিল ব্যাটারদের। তবে ঈশান কিশন ও হাইনরিখ ক্লাসেন তৃতীয় উইকেটে দুরন্ত জুটি গড়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। মাত্র ৪১ বলে ৭৫ রান যোগ করেন তাঁরা। যে পিচে অন্যরা স্বচ্ছন্দ ছিলেন না, সেখানে অনায়াসে বড় শট খেলছিলেন দু’জনেই।
ক্লাসেন বিশেষ ভাবে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন। ছ’টি চার ও দু’টি ছক্কার সাহায্যে মাত্র ২৬ বলে ৪৭ রান করেন তিনি। তবে নূর আহমেদের বলে এগিয়ে খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার। তাঁর আউটের পর কিছুটা চাপে পড়ে যায় হায়দরাবাদ। এক সময় ম্যাচ হারের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ঈশান কিশন দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান। শেষ দিকে ৭০ রান করে আউট হলেও ততক্ষণে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। বাকি ব্যাটাররা সহজেই লক্ষ্য পেরিয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven − 4 =