ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম আকর্ষণীয় মুহূর্তের অপেক্ষা এখন সমর্থকদের। ঠিক এক মাস পর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সেই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তেজনার পারদ চড়েছে। তবে তার আগেই বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আরও একটি বিশেষ চমক অপেক্ষা করছে। ব্রাজিলের কিংবদন্তি অধিনায়ক ও বিশ্বকাপজয়ী তারকা কাফু আগামী সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন। উত্তরবঙ্গ ও কলকাতা—দুই জায়গাতেই তাঁর একাধিক কর্মসূচি রয়েছে।
আগামী ৬ সেপ্টেম্বর কাফুর দার্জিলিং পৌঁছানোর কথা। সেখানে তিনি আর্য চা বাগান এলাকায় গড়ে ওঠা ‘সিদ্রা হিলস স্পোর্টস অ্যান্ড ওয়েলনেস রিসোর্ট’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে ক্রীড়া ও পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আয়োজকদের আশা। শুধু তাই নয়, ওই দিন তাঁর উপস্থিতিতেই দুটি নতুন ফুটসল ক্লাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। ক্লাব দুটি হল দার্জিলিং ওয়ারিয়র্স এফসি এবং নর্থবেঙ্গল ফাইটার্স এফসি। উদ্বোধনের পর এই দুই দলের মধ্যে একটি প্রদর্শনী ম্যাচেরও আয়োজন করা হয়েছে, যা স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।
প্রথমে অনুষ্ঠানটি আর্য চা বাগানের নিজস্ব মাঠে আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও পরে সেটি স্থানান্তর করা হয়েছে লেবংয়ের গোর্খা স্টেডিয়ামে। বৃহত্তর দর্শকসমাগম এবং উন্নত পরিকাঠামোর কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অনুষ্ঠানে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের প্রতিনিধিরাও এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন বলে আয়োজক সূত্রে খবর।
উত্তরবঙ্গ সফর শেষ করে কাফু কলকাতাতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। আগামী সোমবার বিএনসিসিআই-এ ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, অবকাঠামো গঠন এবং ফুটবলকে ঘিরে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নে বিভিন্ন পরামর্শও দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। সেই বৈঠকে স্মারক হিসেবে একটি ব্রাজিলের জার্সি উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। যদিও এই সাক্ষাতের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
কাফু বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সফল ডিফেন্ডার হিসেবে পরিচিত। তাঁর আসল নাম মারকোস ইভাঞ্জেলিস্তা দে মোরায়েস। রাইট ব্যাক পজিশনে অসাধারণ ধারাবাহিকতা, নেতৃত্বের গুণ এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য তিনি বিশেষভাবে সমাদৃত। ১৯৯৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা চারটি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনি। ১৯৯৪ এবং ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন কাফু। পাশাপাশি তিনি বিশ্ব ফুটবলের একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে নামার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।
সব মিলিয়ে ব্রাজিলের এই কিংবদন্তির বাংলা সফর শুধু ফুটবলপ্রেমীদের কাছেই নয়, রাজ্যের ক্রীড়া ও পর্যটন ক্ষেত্রের জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। তাঁর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে তরুণ ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করবে এবং আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলার সংযোগকে আরও দৃঢ় করবে।

