ভারতীয় ক্রিকেটে বয়স জালিয়াতি নিয়ে ফের বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলার তরুণ স্পিনার রোহিত যাদবকে প্রথমে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) দুই বছরের জন্য নির্বাসিত করেছিল। এবার সেই একই পথে হেঁটেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী দুই বছর তিনি কোনও ধরনের স্বীকৃত ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না। ফলে তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারে বড় ধাক্কা নেমে এসেছে।
সম্প্রতি রোহিত যাদব ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে ও মাল্টি-ডে সিরিজের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে তিনি শ্রীলঙ্কা সফরেও ভারতের হয়ে খেলেছেন এবং ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নির্বাচকদের নজর কেড়েছিলেন। কিন্তু বয়স সংক্রান্ত নথিতে অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে আসতেই তাঁর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে তো খেলতেই পারবেন না, এমনকি আগামী দুই বছর কোনও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন না।
তদন্তে উঠে এসেছে যে রোহিতের আধার কার্ডের তথ্য একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালে আধার কার্ড তৈরির সময় তাঁর জন্মতারিখ ছিল ৭ জুলাই, ২০০৭ এবং ঠিকানা ছিল উত্তরপ্রদেশ। কিন্তু পরবর্তী কয়েক বছরে সেই তথ্য বারবার সংশোধন করা হয়। ২০১৭ সালে জন্মসাল ২০০৭ থেকে বদলে ২০০৬ করা হয়। এরপর ২০২১ সালে আবার সেটি পরিবর্তন করে ২০০৯ দেখানো হয়। শুধু জন্মতারিখই নয়, ঠিকানাতেও পরিবর্তন আসে। প্রথমে উত্তরপ্রদেশের ঠিকানা থাকলেও পরে তা বদলে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া দেখানো হয়।
বোর্ডের নির্দেশ অনুসারে সিএবি স্থানীয় ক্রিকেটারদের বয়স সংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করে। সেই তদন্ত চলাকালীনই রোহিতের আধার কার্ডের আপডেট ইতিহাসে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তদন্তকারীরা দেখতে পান, বিভিন্ন সময়ে জন্মসাল এবং ঠিকানায় একাধিক পরিবর্তন করা হয়েছে, যা সন্দেহের সৃষ্টি করে। এরপর সিএবি নিজেদের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষ করে তাঁকে দুই বছরের জন্য নির্বাসিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সিএবি এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি পুরো বিষয়টি ই-মেলের মাধ্যমে বিসিসিআইকে জানায়। বোর্ড অভিযোগ পাওয়ার পর রোহিতের কাছ থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি চেয়ে পাঠায় এবং সেগুলি খতিয়ে দেখে। নথি পর্যালোচনার পর বিসিসিআইও সিএবির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে একই মেয়াদের নির্বাসন ঘোষণা করে। এর ফলে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের দুই সর্বোচ্চ সংস্থাই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়।
এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব রোহিতের ক্রিকেট জীবনে দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তাঁর পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল। অনূর্ধ্ব-১৯ বা অন্য কোনও বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় আর অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। নির্বাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি যদি আবার প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে চান, তবে তাঁকে সরাসরি সিনিয়র স্তরের ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে সুযোগ এলে রঞ্জি ট্রফির মতো প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতাতেই তাঁর প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করতে হবে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, বয়স জালিয়াতির মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসন এখন অনেক বেশি কঠোর অবস্থান নিচ্ছে এবং এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

