কলকাতা : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার আমতলা–স্থিত পার্টি কার্যালয় ভেঙে ফেলার ওপর কলকাতা হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ বহাল রইল। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৬ আগস্ট বেলা ২টোয়।
শুনানির সময় রাজ্য সরকারের তরফে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার আর্জি জানানো হয়। অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতকে বলেন, অন্তর্বর্তী নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদনটি যাতে দ্রুত শোনা হয়। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কিশোর দত্ত অন্তর্বর্তী সনদের মেয়াদ বাড়ানোর আর্জি জানান। পাশাপাশি, উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি আবেদন দাখিল করা হয়।
উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনার পর আদালত জানায়, এই মামলায় তিনটি পৃথক আবেদন জমা পড়েছে, যার সবকটির শুনানি একসঙ্গে হওয়া প্রয়োজন। সেই কারণেই আদালত আপাতত স্থিতাবস্থা বহাল রেখে শুনানি ৬ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করে দেয়।
আমতলার এই পাঁচতলা ভবনটির বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৮ জুলাই প্রশাসন ভবনের একাংশ গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ চালায়। এর পর কার্যালয় থেকে জিনিসপত্র সরানোর কাজ চলে সারারাত এবং পরদিন ফের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে বুলডোজারের পাশাপাশি এয়ার কম্প্রেসার, ভাইব্রেটর-সহ নানা আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছিল।
উচ্ছেদ অভিযানের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে, সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে এবং অনুমোদিত নকশা অনুযায়ীই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে, তাই প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অনুচিত।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, আমতলার এই ভবনটিকে কেন্দ্র করে সুশান্ত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এর পরেই প্রশাসন জমির পূর্বতন মালিক মতিউর রহমান মণ্ডল, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থা এবং তার ডিরেক্টর তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস পাঠায় এবং ১৫ জুলাই শুনানিতে হাজির থাকার নির্দেশ দেয়।
প্রশাসনের দাবি, কোনও পক্ষই শুনানিতে উপস্থিত হয়নি। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা দাবি, তাঁদের প্রতিনিধি শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।

