বিনা কাগজেই দাহ করা হচ্ছে মৃতদেহ, মেলে না শংসাপত্র

রাজীব মুখোপাধ্যায়, হাওড়া

হাঁসখালী কান্ড নিয়ে গোটা রাজ্য এখন উত্তাল। এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলে তার দেহ গ্রামের শ্মশানে দাহ করে প্রমান লোপাটের চেষ্টা করা হয়। ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। তদন্তে উঠে আসে কোনো কাগজ ছাড়াই মৃতদেহ দাহ করা হয়েছে শ্মশানে।

এরপর ওই শ্মশানের কর্মচারী দাবি করেন, এখানে বিনা কাগজে দাহ করা যায় মৃতদেহ। যা শুনে চোখ কপালে উঠেছিল রাজ্যবাসীর। হাঁসখালীর মতো ঘটনা হাওড়াতে না ঘটলেও এরকমই এক শ্মশান রয়েছে হাওড়া পৌর নিগম এলাকায়। যেখানে মৃতদেহ দাহ করতে লাগে না কোনো সরকারি নথি। লাগে না মৃতের পরিচয় পত্র। এমনকি দেহ দাহ করার পর দেওয়াও হয় না মৃতের পারলৌকিক ক্রিয়ার নথি। সম্পুর্ন অসুরক্ষিত অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে রয়েছে এই শ্মশানটি। এবার এই স্মশানটি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এই শ্মশানে মানা হয় না কোনো রেজিস্টার। দিন ও রাত মিলিয়ে সারাদিনে ক’টা মৃতদেহ দাহ করা হল নেই তারও হিসেব। স্বাভাবিকভাবে বলা যায় রাতের অন্ধকারে কেউ মৃতদেহ নিয়ে এসে তা দাহ করে চলে গেলেও তার কোনো হদিস পাওয়া যাবে না নগর নিগমের কাছে। স্থানীয় বাসিন্দা দীনেশ বাগ বলেন, ২০১৫ সালের পর তিনি জানতে পারেন এখানে একটি শ্মশান রয়েছে। এই জায়গাটি উনসানী খাল পাড়, ১২ নম্বর রেল গেটের পাশে। তিনি বলেন, এখানে স্থানীয় লোকেরা মৃতদেহ দাহ করে, কিন্তু তার কোন শংসাপত্র পৌর নিগমের কাছ থেকে পাওয়া যায় না।

বছরে একদিন শ্মশান কালীর পুজোর দিন এই শ্মশান তারা পরিষ্কার করেন। এখানে শ্মশান রয়েছে তা সকলেই জানেন কিন্তু কেউ মুখ খোলেন না। এখানে রাত্রি ১০টা কখনো মধ্য রাত্রেও মৃতদেহ দাহ করার কাজ হয়। যদিও ঘটনার কথা জানার পর হাওড়া পৌর নিগমের মুখ্য প্রশাসক দাবি করেন, ‘তিনি বিষয়টি তার নির্দিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের জানিয়েছেন। সেই টিম খুব শীঘ্রই এই শ্মশান নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেবেন। তারপরে এই শ্মশানকে নিয়ে পরবর্তী পরিকল্পনা নেওয়া হবে’। যদিও তার মন্তব্যকে কটাক্ষ করে বিজেপি নেতা উমেশ রাই জানান, ‘উনি কাজ করছেন বলছেন আর রোজ রোজ একটি করে বিশেষ টিম নামাছেন। আসলে তৃণমূলের বোর্ড ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাঁচ বছরে টাকা পয়সা লুট করতে ব্যস্ত ছিল। তাই এই ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড হাওড়া পৌর নিগমে সংযুক্ত করা হলেও এখানে নগর নিগমের কোনো পরিষেবা নেই। তা শ্মশান হোক, পরিশ্রুত পানীয় জল বা আলো সবই পঞ্চায়েত এলাকার মতোই। তবু নগর নিগমের ধার্য করা করের টাকা গুনতে হয় বাসিন্দাদের’।

হাঁসখালী কাণ্ডের পর হাওড়া পৌর নিগমের বুকে এই ধরণের অরক্ষিত শ্মশান চালু থাকাকে ভালো ভাবে নিচ্ছে না এলাকার মানুষ। তারা জানিয়েছেন, পরিবারে কেউ মারা গেলে তারা মৃতদেহ শিবপুর শ্মশান ঘাটে নিয়ে যান। ওখানে মৃতের দাহ করার শংসাপত্র পাওয়া যায়। না হলে শংসাপত্র ছাড়া মৃতদেহ দাহ হলে সেই ব্যক্তি আইনের চোখে জীবিতই থাকে। এতে পরবর্তীকালে তাদের পরিবারের আইনত সমস্যা বাড়বে বই কমবে না। তাই বাসিন্দাদের দাবি, এই শ্মশানকে পৌর নিগম তাদের তালিকাভুক্ত করুক। যাতে মানুষের সমস্যা সমাধানে সুবিধা হয়। তবে পৌর নিগম এই শ্মশান নিয়ে কত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 − three =