আইপিএলের শীর্ষে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করল বেঙ্গালুরু। একানা স্টেডিয়ামে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে হেরে বড় ধাক্কা খেল তারা। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে এক ওভার কমিয়ে ১৯ ওভারের খেলায় লখনউ ২০৯ রান তোলে। ডিএলএস নিয়মে তা গিয়ে দাঁড়ায় ২১৩ তে। জবাবে লড়াই করেও ২০৩ রানের বেশি যেতে পারেনি বেঙ্গালুরু। ফলে ১০ রানের জয় পায় ঋষভ পন্থের দল। এই জয়ের ফলে লখনউ এখনও খাতায়-কলমে প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকল, যদিও সম্ভাবনা খুবই কম।
একানার মন্থর পিচে ২১০ রান তাড়া করা সহজ ছিল না। তার উপর শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বেঙ্গালুরু। প্রথম ওভারেই জেকব বেথেলকে ফিরিয়ে দেন মহম্মদ শামি। পরের ওভারেই প্রিন্স যাদবের দুরন্ত বলে বোল্ড হন বিরাট কোহলি। দুই ওপেনার দ্রুত ফিরে যাওয়ায় চাপ বেড়ে যায় দলের উপর।
এই পরিস্থিতিতে ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন দেবদত্ত পডিক্কল ও রজত পাটীদার। রান তাড়ার চাপ মাথায় রেখেই শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তাঁরা। লখনউয়ের বোলারদের উপর পাল্টা চাপ তৈরি করেন এই দুই ব্যাটার। দু’জনে মিলে দ্রুত রান তুলে দলকে ম্যাচে ফেরান। তবে প্রিন্স যাদব আবারও আঘাত করেন। প্রথমে পডিক্কলকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ৩৪ রানের ইনিংস খেলেন পডিক্কল। একই ওভারে জিতেশ শর্মাকেও আউট করে বেঙ্গালুরুকে চাপে ফেলে দেন প্রিন্স।
এর পরও লড়াই চালিয়ে যান রজত পাটীদার। তিনি অর্ধশতরান পূর্ণ করে দলকে আশায় রাখেন। মাত্র ৩১ বলে ৬১ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও ছয়টি ছক্কা। তবে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হয়ে যান তিনি। শেষ দিকে টিম ডেভিড ঝড় তোলার চেষ্টা করেন। চারটি চার ও তিনটি ছক্কা মেরে দ্রুত রান তুলছিলেন তিনি। কিন্তু শাহবাজ় আহমেদের বলে আউট হয়ে গেলে বেঙ্গালুরুর জয়ের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় লখনউ। অধিনায়ক ঋষভ পন্থ বলেছিলেন, এই পিচে ১৮০-১৯০ রানই যথেষ্ট হতে পারে। কিন্তু মিচেল মার্শের দুরন্ত শতরানে সেই লক্ষ্যমাত্রা অনেকটাই ছাড়িয়ে যায় তারা। বৃষ্টির কারণে বারবার খেলা বন্ধ হলেও মার্শের ব্যাট থামেনি। শুরুতে কুলকার্নির সঙ্গে ৯৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। পরে নিকোলাস পুরানের সঙ্গে আরও ৭০ রান যোগ করেন। পুরানও দ্রুত রান তুলে মার্শকে দারুণ সঙ্গ দেন।
অস্ট্রেলিয়ার এই অলরাউন্ডার ৫৬ বলে ১১১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে নয়টি চার ও নয়টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত হেজ়লউডের বলে আউট হন তিনি। শেষ দিকে ঋষভ পন্থও ঝোড়ো ব্যাটিং করেন। মাত্র ১০ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন লখনউ অধিনায়ক। তাঁর ইনিংসের সৌজন্যেই ২০০ পার করে লখনউ, আর সেই রানই শেষ পর্যন্ত জয়ের ভিত গড়ে দেয়।

