কলকাতা : কলকাতার বেহালা থেকে ২০১১ সালে নিখোঁজ হওয়া দুই ১৯ বছর বয়সি ছাত্রের মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। ঘটনার ১৬ বছর কেটে যাওয়ার পরও রাজ্য পুলিশ ও সিআইডি কোনো সূত্র খুঁজে না পাওয়ায়, হাইকোর্ট এখন এই রহস্যজনক অপহরণ কাণ্ডের তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-র হাতে তুলে দিয়েছে।
ঘটনাটি ২০১১ সালের ১৮ এপ্রিলের, যখন বেহালা থেকে দুজন ১৯ বছর বয়সি ছাত্র আচমকা নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের মতে, শুরুতে তাঁরা ঘটনার গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। কিন্তু দুদিন পর তাঁদের কাছে মুক্তিপণের ফোন আসে। অপহরণকারীরা দুই ছাত্রকে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। পরিবারের লোকেরা অপহরণকারীদের সাথে কথা বলার পর সেই বিশাল অঙ্কের টাকা মিটিয়েও দেন। তাঁদের আশা ছিল টাকা পাওয়ার পর সন্তানরা বাড়ি ফিরে আসবে, কিন্তু তেমনটা ঘটেনি এবং আজ পর্যন্ত ওই দুই ছাত্রের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এই মামলার তদন্ত প্রথমে রাজ্য পুলিশ শুরু করে এবং পরবর্তীতে তা সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত চলার পরও যখন দুই ছাত্রের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তদন্তের দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তখন অবশেষে বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছায়।
মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি আর্যক দত্তের ডিভিশন বেঞ্চ সমগ্র পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তদন্তের দায়িত্ব সিবিআই-এর হাতে অর্পণ করার নির্দেশ দেন। বুধবার আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজন মনে করলে এই ঘটনায় নতুন করে এফআইআর দায়ের করে নতুনভাবে তদন্ত শুরু করতে পারে। এর অর্থ হলো সিবিআই পুরোনো ফাইল খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তদন্তের নতুন দিকগুলো নিয়েও কাজ করতে পারবে।
এছাড়াও, হাইকোর্ট সিবিআই-কে আগামী ডিসেম্বর মাসে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই রায়ের পর, বেহালার এই বহুল আলোচিত অপহরণ কাণ্ডে আবারও বিচারের আশা জেগে উঠেছে। এত বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা ও নিরাশার পর, নিখোঁজ দুই ছাত্রের পরিবার এখন সিবিআই তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে আসার নতুন আলো দেখছে।

