স্পনসর সংকটে বিসিসিআই !  নতুন সঙ্গী খুঁজে পাচ্ছে না বিশ্বের ধনীতম ক্রিকেট বোর্ড

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রীড়া সংস্থা হলেও নতুন টাইটেল স্পনসর খুঁজতে গিয়ে এবার বেশ সমস্যার মুখে পড়েছে। দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত ভারতীয় দলের আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোর জন্য নতুন স্পনসর পাওয়ার উদ্দেশ্যে বোর্ড অনেক আগেই দরপত্র আহ্বান করেছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও কোনও সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ দেখায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এত বড় আর্থিক শক্তির অধিকারী বোর্ডের ক্ষেত্রেও কেন স্পনসর জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ল।
বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সির প্রধান স্পনসর হিসেবে একটি টায়ার প্রস্তুতকারী সংস্থা রয়েছে। তবে সেই চুক্তি শুধু জার্সির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্যদিকে, দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোর নামকরণের জন্য আলাদা টাইটেল স্পনসর চায় বিসিসিআই। অতীতে যেমন ‘আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্ক’ বিভিন্ন সিরিজের টাইটেল স্পনসর ছিল, এবারও সেই ধরনের কোনও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে চায় বোর্ড।
এই লক্ষ্যে বিসিসিআই ইতিমধ্যেই একাধিক বড় সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছে। প্রযুক্তি, আর্থিক পরিষেবা এবং অটোমোবাইল সংক্রান্ত বিভিন্ন কোম্পানির কাছে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিষ্ঠান চুক্তি স্বাক্ষরের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এর অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে বোর্ডের কঠোর শর্তাবলি।
স্পনসর নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিসিসিআই দীর্ঘদিন ধরেই কিছু নির্দিষ্ট শিল্পক্ষেত্রকে নিষিদ্ধ রেখেছে। মদ, তামাক এবং বেটিং সংস্থাগুলিকে আগেই এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় আরও কিছু শিল্পকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। টায়ার, রং এবং ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকেও বর্তমান দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। কারণ এই ক্ষেত্রগুলিতে ইতিমধ্যেই বোর্ডের বিদ্যমান বাণিজ্যিক অংশীদার রয়েছে। ফলে একই ধরনের সংস্থাকে নতুন করে টাইটেল স্পনসর করলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে।
এর ফলে এমআরএফ, সিইএটি, বার্জার পেইন্টস, জেএসডব্লিউ পেইন্টস, নাইকি, পুমা কিংবা ডেকাথলনের মতো পরিচিত ব্র্যান্ডগুলি এই টেন্ডারে অংশ নিতে পারছে না। স্বাভাবিকভাবেই সম্ভাব্য স্পনসরের সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছে।
শুধু তাই নয়, আর্থিক যোগ্যতার ক্ষেত্রেও বিসিসিআই কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। দরপত্রে অংশ নিতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার গত তিন অর্থবছরে গড় বার্ষিক টার্নওভার কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা হতে হবে। পাশাপাশি কোনও কনসোর্টিয়াম বা যৌথ উদ্যোগকে গ্রহণ করা হবে না। অর্থাৎ একক সংস্থাকেই সমস্ত দায়িত্ব নিতে হবে। এই শর্তও অনেক সম্ভাব্য আবেদনকারীকে পিছিয়ে দিয়েছে।
বোর্ডের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৩৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচকে এই চুক্তির আওতায় ধরা হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য টাইটেল স্পনসরশিপের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪.৮৫ কোটি টাকা। এই চুক্তির মধ্যে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সিরিজ ও বিশেষ ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেট, এসিসি ও আইসিসি আয়োজিত প্রতিযোগিতা এবং ভারতীয় সিনিয়র মহিলা দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বিসিসিআইয়ের ব্র্যান্ড মূল্য এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও কঠোর বাণিজ্যিক নীতি, সীমিত যোগ্যতা এবং উচ্চ আর্থিক শর্তের কারণে নতুন টাইটেল স্পনসর খুঁজে পাওয়া সহজ হচ্ছে না। আগামী দিনে বোর্ড শর্তে কিছু পরিবর্তন আনে কি না, সেদিকেই এখন নজর ক্রিকেট মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − five =