ডুরান্ড কাপের ফাইনালে হতাশাজনক পরাজয়ের পর কলকাতা লিগে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিল মোহনবাগান। জর্জ টেলিগ্রাফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার পর এবার তাদের সামনে ছিল রেলওয়ে এফসি। ঘরের মাঠে এই ম্যাচে জয় ছাড়া কোনও বিকল্প ছিল না, কারণ সুপার সিক্সে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকতে তিন পয়েন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় সবুজ-মেরুন শিবির।
এই ম্যাচে মোহনবাগানের হয়ে সিনিয়র দলের ফুটবলার মনবীর সিং ও সাহাল আবদুল সামাদ খেলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কিয়ান নাসিরিও। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মোহনবাগান। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই কিয়ানের বাড়ানো বল থেকে সুযোগ তৈরি হলেও মনবীর সেটিকে কাজে লাগাতে পারেননি। এরপরও বারবার রেলওয়ের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে সবুজ-মেরুন। তবে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক দুরন্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
প্রথমার্ধে সাহালের হেড, কিয়ানের শট কিংবা গোলমুখে একাধিক আক্রমণ থেকেও গোল পায়নি মোহনবাগান। উল্টোদিকে রেলওয়ে খুব বেশি আক্রমণে না উঠলেও সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। ৪১ মিনিটে উমেশ মারান্ডির গোলে ম্যাচের গতির বিরুদ্ধে এগিয়ে যায় তারা। তবে বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টি আদায় করে মোহনবাগান। স্পট কিক থেকে মনবীর সিং নির্ভুল শটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। ফলে ১-১ স্কোরলাইন নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ হয়।
বিরতির পর অনেক বেশি সংগঠিত ফুটবল খেলতে শুরু করে বাস্তব রায়ের দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের শট ক্রসবারে লাগে। এরপরও চাপ অব্যাহত রাখে মোহনবাগান। ৫৩ মিনিটে কিয়ান নাসিরির দুর্দান্ত পাস থেকে রবিলাল মাণ্ডি গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
পিছিয়ে পড়ার পর রেলওয়েও হাল ছাড়েনি। তারক হেমব্রম একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু মোহনবাগানের গোলরক্ষক সৈয়দ জাহিদ হোসেন অসাধারণ দক্ষতায় সেই শট রুখে দেন। তাঁর এই সেভ ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে মনবীর, সাহাল ও কিয়ান আরও কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। বিশেষ করে মনবীর গোলরক্ষককে কাটিয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন, যা কোচিং স্টাফকে কিছুটা চিন্তায় ফেলবে।
ম্যাচের শেষদিকে কর্নার কিক থেকে পরিবর্ত খেলোয়াড় সুহেল ভাট দুর্দান্ত হেডে তৃতীয় গোল করে মোহনবাগানের জয় নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জিতে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নেয় সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।
এই জয়ের ফলে ৯ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে কলকাতা লিগের সুপার সিক্সে ওঠার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল মোহনবাগান। যদিও জয় এসেছে, তবু প্রচুর গোলের সুযোগ নষ্ট করার প্রবণতা ভবিষ্যতের কঠিন ম্যাচগুলোর আগে চিন্তার কারণ হয়ে থাকবে। লিগ তালিকায় ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ভবানীপুর। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল, তাদের সংগ্রহ ৮ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইউনাইটেড কলকাতা। ফলে শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে মোহনবাগানকে আগামী ম্যাচগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করতে হবে।

