নিম্নচাপের দাপটে অকাল বৃষ্টিতে মাথায় হাত আরামবাগের চাষিদের

নিম্নচাপের দাপটে বৃষ্টি। পাকা ধানে মই। হুগলি জেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধান চাষ হয়েছিল। সেই ধান পেকে গিয়েছে। চাষিরা মাঠ থেকে ইতিমধ্যেই ধান তুলতে শুরু করেছে। হুগলি জেলার অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি আরামবাগ মহকুমার যেখানে আমন ধান চাষ হয়েছে সেখানে ক্ষতির পরিমাণ দেখে হতাশ তারা। বৃহস্পতিবার সকালে বহু চাষি মাঠে গিয়ে ধানগাছের অবস্থা দেখে ভেঙে পড়েন। ইতিমধ্যে অনেকে ধান কাটার কাজ শুরুও করেছিলেন। কিন্তু জমা জলে কেটে রাখা সেই ধান ডুবে গিয়েছে। রাজ্য কৃষি দপ্তরের নির্দেশে প্রতিটি ব্লকের কৃষি আধিকারিকরা নিজেদের এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখতে বেরিয়ে পড়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

এদিনের বৃষ্টিতে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে, হুগলি জেলার মধ্যে আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুল, পুরশুড়া, সিঙ্গুর, হরিপালের কিছু অংশ সমেত আশপাশের বেশ কয়েকটি মৌজায় কয়েকশো হেক্টর জমির ধানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

আরামবাগের ধান চাষি পিন্টু ঘোষ বলেন, কয়েক বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। দু’দিনের ব্যবধানে পর পর বৃষ্টি আর বাতাসে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কয়েক হাজার টাকা খরচ করে চাষ করেছি। এখন যা পরিস্থিতি খরচের টাকাও উঠবে কিনা বুঝতে পারছি না। এক বিঘা জমিতে খরচ হয় প্রায় ১৪ হাজার থেকে পনেরো হাজার টাকা। এই সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধানের ফলন নষ্ট হয়ে গেল। কয়েক বিঘা জমিতে ধান জলের মধ্যে পড়ে রয়েছে। উদ্ধার করা যাবে না। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃষ্টিতে হুগলি জেলার মধ্যে আরামবাগ ও গোঘাট ব্লকে ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। খানাকুলের ঘোষপুর, কিশোরপুর, পোল, পাতুল-সহ বিভিন্ন এলাকায় ধানের শিষ ঝরে পড়েছে। ধানগাছ জলে পড়ে নষ্ট হয়েছে। কোথাও আবার, কাটার পরে জমিতে রাখা পাকা ধান ভিজে নষ্ট হয়েছে।

পাশাপাশি আরামবাগের সালেপুর এক ও দুই নম্বর অঞ্চল, গৌরহাটি এক ও দুই নম্বর অঞ্চল, বাতানল, তিরোল, মাধবপুর, আরান্ডী-সহ বিভিন্ন অঞ্চলের চাষিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে। আরামবাগ ব্লকের এক আধিকারিক বলেন, আমন ধানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা ক্ষতির পরিমাণ দেখে উচ্চ প্রশাসনে জানা জানাব। অন্যদিকে আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিশির সরকার জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাষিদের পাশে আছেন। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। চাষিদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এখন দেখার আমন ধান চাষিদের স্বার্থে প্রশাসন কি পদক্ষেপ নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *