বীরভূম : বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল, একসময় যাঁর নির্দেশই জেলায় শেষ কথা বলে গণ্য হতো, জেল থেকে ফেরার পর বীরভূমের রাজনীতিতে তাঁর সেই দাপটে ব্যাপক বদল এসেছে। কখনও অত্যন্ত প্রভাবশালী থাকা অনুব্রত মণ্ডল এখন অনেকটাই কোণঠাসা। রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকে তিনি কার্যত নিজের গৃহেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এই আবহে এবার তাঁর সরকারি নিরাপত্তাও সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হলো। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই তাঁর দায়িত্বে থাকা রাজ্য পুলিশের তিন নিরাপত্তা কর্মীকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
রাজ্য গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন অনুব্রত মণ্ডল দীর্ঘ সময় ধরে ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেয়ে আসছিলেন। সবসময় তাঁর সঙ্গে সশস্ত্র পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকতেন। এমনকি বোলপুরের নিচুপট্টি এলাকায় তাঁর বাড়ির সুরক্ষাতেও মোতায়েন থাকত রাজ্য পুলিশের জওয়ানরা। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বহু প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার নিরাপত্তা ছাঁটাই করা হয়, যার মধ্যে অনুব্রত মণ্ডলও ছিলেন।
ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পর তাঁর জন্য দুজন সশস্ত্র দেহরক্ষী এবং বাড়ির পাহারায় একজন পুলিশকর্মী রাখা হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত থেকে সেই ব্যবস্থাও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হলো। সরকারি নিরাপত্তা সম্পূর্ণ চলে যাওয়ার পর এখন তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র মারফত জানা গেছে, ইতিমধ্যেই তাঁর জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষীর খোঁজ চালানো হচ্ছে। যদিও এই গোটা বিষয়ে অনুব্রত মণ্ডলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে অনুব্রত মণ্ডলের ব্যাপক দাপট ছিল। জেলায় তাঁর প্রভাব বোঝাতে “বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খায়” প্রবাদটি পর্যন্ত বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। তবে রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়েছে। বীরভূমেও বিজেপি ছয়টি আসনে জয়লাভ করেছে।
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে জেলায় তৃণমূলের ছোট-বড় নেতাদের সক্রিয়তা অনেকটাই কম দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে অনুব্রত মণ্ডলও বোলপুরের বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন না। তাঁর বাড়ির বাইরে আগের মতো সমর্থক ও কর্মীদের চেনা ভিড়ও আর চোখে পড়ছে না।

