মোমো খাওয়ার টোপ দিয়ে ডেকে যুবককে খুনের অভিযোগ

ব্যারাকপুর : মোমো খাওয়ার টোপ দিয়ে ডেকে এক যুবককে খুন করার অভিযোগ উঠল স্থানীয় এক গৃহবধূ-সহ তাঁর স্বামী ও দেওয়ের বিরুদ্ধে। নৈহাটির শিবদাসপুর থানার মামুদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দোগাছিয়া গ্রামের উত্তর দাসপাড়ার ঘটনা। ইন্টারিয়র ডেকোরেশন কাজের সঙ্গে যুক্ত মৃত যুবকের নাম সুব্রত হালদার (২৫)।

মঙ্গলবার সকালে বাঁশবাগান লাগোয়া একটি পুকুরের ধারে তাঁর মোবাইল ফোনের কভার পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং চটি দুটো পুকুরের জলে ভাসতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ বাদেই স্থানীয়দের নজরে আসে পুকুরের মধ্যে সুব্রতের দেহ ভাসছে। শিবদাসপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাশ্ববর্তী এক গৃহবধূর সঙ্গে অবৈধ প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল মৃত যুবকের। পাশাপাশি ওই গৃহবধূর সঙ্গে তাঁর নিজের দেওরেরও সম্পর্ক রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণা সাউয়ের দাবি, ত্রিকোণ প্রেমের বলি হয়েছেন ওই যুবক। মৃতের দিদি অর্চনা দাস জানান, মঙ্গলবার সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ পড়শি বাবলু সাউয়ের বউ চিঙ্কির সঙ্গে ভাই ফোনে কথা বলছিল। ভাইকে মোমো কিনে নিয়ে যেতে বলেছিল চিঙ্কি। রাতে মোমো নিয়ে গেলে ভাইকে বাঁশবাগানে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে ওরা ভাইকে খুন করেছে। তারপর ভাইয়ের দেহ ওরা পুকুরে ফেলে দিয়েছে। অর্চনা দেবীর দাবি, ভাইয়ের গলা, নাক-সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এই ঘটনায় বাবুল সাউ, তাঁর স্ত্রী চিঙ্কিও বাবলুর ভাই মিষ্টি জড়িত। যদিও ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই তিনজনকে পাকড়াও করেছে। ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন মৃতের পড়শিরা।

জানা গিয়েছে, ধৃত বাবলু পেশায় রাজমিস্ত্রি। ধৃত বাবলুর বাবা রাজু সাউ বলেন, ছেলের বন্ধু ছিল সুব্রত। নিয়মিত তাদের বাড়িতে সুব্রতর যাতায়াত ছিল। রাজু সাউয়ের দাবি, বউমার সঙ্গে সুব্রতের সম্পর্কের বিষয়ে তাঁর কিছুই জানা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *