৭ মাস নিখোঁজ নাবালিকার তদন্তে রায়নায় সিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদন, পূর্ব বর্ধমান: প্রায় ৭ মাস ধরে নিখোঁজ নাবালিকার খোঁজে বুধবার তদন্তে এল সিবিআই। বুধবার পূর্ব বর্ধমানের রায়নার মাছখাণ্ডা এলাকায় সিবিআইয়ের তিন সদস্যের একটি দল তদন্তে আসে। প্রথমে নিখোঁজ নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেন। পরে এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, গত ৯ অগস্ট পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানা এলাকায় এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়ে যায়। ওই নাবালিকা স্থানীয় হাইßুñলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগে শেখ সফিকুল ও শেখ জসিমুদ্দিন শেখ নামের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খণ্ডঘোষ থানার লতিফপুর ও বাদুলিয়ায় তাঁদের বাড়ি। দু’দফায় ৭ দিন তাঁদের পুলিশ হেপাজতে নিয়েও নিখোঁজ হওয়া ছাত্রীর কোনও হদিশ পায়নি পুলিশ। প্রথম দফার ৭ দিনের পুলিশি হেপাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ধৃতদের ফের আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতদের আরও ৭ দিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান রায়না থানার তদন্তকারী অফিসার। সেই আবেদন মঞ্জুর করেন সিজেএম আদালত। সেই মত তদন্ত করেও কোনও হদিশ মেলেনি।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৯ অগস্ট সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ টিউশন পড়তে যাওয়ার কথা বলে সে বাড়ি থেকে বের হয়। তারপর থেকে তার আর কোনও হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর করেও ছাত্রীর খোঁজ না পেয়ে তার মা ১৭ আগস্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কয়েকদিন পর পরিবার জানতে পারে তঁদের মেয়েকে ফুঁসলিয়ে অপহরণ করে অন্যত্র নিয়ে গিয়েছে খণ্ডঘোষের লতিফপুর এলাকার সফিকুল শেখ ও বাদুলিয়া এলাকার জসিম শেখ।
পরিবারের দাবি, জসিম সকলের সামনে স্বীকার করেছিল সে মেয়েটিকে বাইকে চাপিয়ে স্টেশন পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন সফিকুলের কাছে। পরিবারের আরও দাবি, তারা অভিযুক্তদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল। নাবালিকা অপহরণকারীদের কঠিন শাস্তি ও তাকে উদ্ধারের দাবিতে পথ অবরোধ হয় রায়নায়। ভারত জাকাত মাঝি পরগনা নামে আদিবাসী সংগঠন গত ১২ অক্টোবর রায়না থানার শ্যামসুন্দর বাজার মোড়ে অবরোধ করে।
পুলিশের তদন্তে উদাসীন মনোভাব দেখে ১৫ জানুয়ারি সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। পুলিশের হাতে মামলা থাকাকালীন দু’জন গ্রেপ্তার হলেও ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট না দেওয়ায় জামিন পেয়ে যান অভিযুক্ত সফিকুল শেখ ও জসিমউদ্দিন শেখ। আগামী ১৩ মার্চ পরিবর্তী শুনানিতে সিবিআইকে তদন্তে অগ্রগতির রিপোর্ট দিতে হবে আদালতে এমনটাই জানা গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *