◆ স্পোর্টস ইন্টিগ্রিটি ও অ্যান্টি-করাপশন হেল্পলাইন গঠনের দাবি প্রাক্তন সিএবি সভাপতির
পশ্চিমবঙ্গের খেলাধুলার জগতে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং অনিয়মের অভিযোগ রুখতে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চাইলেন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)-র প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া। রাজ্যের যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল খানের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখে তিনি পশ্চিমবঙ্গে ‘স্পোর্টস ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন হেল্পলাইন’ চালুর দাবি জানিয়েছেন। ১৩ জুনের ওই চিঠিতে অভিষেক ডালমিয়া দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন ক্রীড়া ক্ষেত্রে দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব, যোগ্যতা সংক্রান্ত জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রেই খেলোয়াড় ও তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে সুযোগ, নির্বাচন, অ্যাকাডেমিতে ভর্তি বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। চিঠিতে তিনি আরও বলেন, একটি নামী ক্রীড়া সংস্থার এক কমিটি সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের নথি এবং অর্থপ্রদানের প্রমাণও কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হয়েছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিষেক ডালমিয়ার মতে, অভিযোগ সত্য বা মিথ্যা যাই হোক না কেন, দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অন্য কোনও অসদাচরণের অভিযোগ দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন অভিযোগ ঝুলে থাকলে ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়। চিঠিতে তিনি একটি গোপনীয় অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে খেলোয়াড়, অভিভাবক, কোচ, কর্মকর্তা, হুইসলব্লোয়ার এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদে অভিযোগ জানাতে পারবেন। একইসঙ্গে অভিযোগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। নিজের সিএবি সভাপতির দায়িত্ব পালনের সময়কার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন অভিষেক ডালমিয়া। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর আমলে ভুয়ো পরিচয় বা যোগ্যতা সংক্রান্ত নিয়মভঙ্গের অভিযোগে প্রায় ৫০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল প্রকৃত প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের প্রাপ্য সুযোগ নিশ্চিত করা। চিঠির শেষ অংশে প্রাক্তন সিএবি সভাপতি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বহু কৃতী ক্রীড়াবিদ উপহার দিয়েছে। তাই এমন একটি ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে সুযোগ নির্ধারিত হবে শুধুমাত্র প্রতিভা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে, প্রভাব, অর্থ বা অনিয়মের ভিত্তিতে নয়। রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করতেই তাঁর এই আবেদন।

