শ্রাবণের প্রথম সোমবারেই ভক্তদের ঢল তারকেশ্বরে

হুগলি : শ্রাবণের প্রথম সোমবার। আর সেই শুভ তিথিতেই কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হল শৈবতীর্থ তারকেশ্বর। এদিন ভোর রাত থেকেই লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ঢল নামে বাবা তারকনাথের দরবারে। শেওড়াফুলির নিমাই তীর্থ ঘাট থেকে বাঁক কাঁধে গঙ্গাজল নিয়ে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার পথ হেঁটে শিবের জয়গান করতে করতে তারকেশ্বরের উদ্দেশে রওনা দেন ভক্তরা। প্রথম সোমবারকে ঘিরে গোটা তারকেশ্বর জুড়ে ছিল ভক্তি, আবেগ এবং উৎসবের এক অনন্য পরিবেশ।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় শ্রাবণী মেলা ২০২৬। সেই মেলার প্রথম সোমবারেই রেকর্ড সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। রবিবার রাজ্য সরকারের উদ্যোগে হেলিকপ্টার থেকে তারকনাথ মন্দির চত্বরে এবং শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত পুণ্যার্থীদের উপর পুষ্পবৃষ্টি করা হয়, যা ভক্তদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আবেগের সঞ্চার করে।

এবারের শ্রাবণী মেলাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে ও ভক্তদের সুবিধার্থে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা, অস্থায়ী শৌচালয়, পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র, বিশ্রামাগার, আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা কেন্দ্র, অ্যাম্বুল্যান্স, সিসিটিভি নজরদারি এবং নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেও পুণ্যার্থীদের যাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে জানিয়েছেন অনেকে।

সোমবার ভোর থেকেই দফায় দফায় কাঁভারিয়া ও সাধারণ ভক্তদের ঢল নামে তারকেশ্বর মন্দিরে। কয়েক ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করার পর বাবা তারকনাথের মাথায় গঙ্গাজল নিবেদন করেন ভক্তরা। কারও প্রার্থনা পরিবারের মঙ্গল কামনায়, কারও বা সুস্থতা ও সমৃদ্ধির আশায়। “জয় বাবা তারকনাথ” ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা মন্দির চত্বর।

বাবার মাথায় জল ঢেলে সাংবাদিকদের বহু পুণ্যার্থী জানান, নতুন সরকারের উদ্যোগে এবার শ্রাবণী মেলার আয়োজন অনেক বেশি সুশৃঙ্খল হয়েছে। নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবার উন্নতি হওয়ায় যাত্রাপথে ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে বলেও তাঁদের দাবি। শ্রাবণের আগামী সোমবারগুলিতেও আরও বেশি ভক্তসমাগমের সম্ভাবনা থাকায় প্রশাসনও সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − three =