তারাতলা বিপর্যয়ে তিন ভাইকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়ল বিহারের এক পরিবার

কলকাতা : কাজের সন্ধানে বিহারের মুঙ্গের থেকে একই পরিবারের ছ’জন কলকাতায় এসেছিলেন। জীবিকার টানে তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামে শ্রমিকের কাজ নিয়েছিলেন। কিন্তু একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে সেই পরিবারের সমস্ত স্বপ্ন ভেঙে দেয়। একে একে প্রাণ হারান তিন ভাই। এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁদের আরও তিন আত্মীয়।

বুধবার দুর্ঘটনার দিনই মৃত্যু হয় ঘি কুমারের। গভীর রাতে ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর ভাই মন্নু কুমারকে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে আর বাঁচাতে পারেননি। প্রায় ৪৮ ঘণ্টার টানা উদ্ধার অভিযানের পর শুক্রবার ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় উদ্ধার হয় তৃতীয় ভাই শিরচাঁদ কুমারের দেহ।

শনিবার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে থাকায় দেহের অবস্থা এতটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল যে প্রথমে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ময়নাতদন্তের পর দেহটি পরিবারের হাতে তুলে দিয়ে বিহারে পাঠানো হবে।

গত বুধবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ তারাতলার নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবনটি আচমকাই ভেঙে পড়ে। সেই সময় বহু শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে কংক্রিট ও লোহার কাঠামোর নীচে চাপা পড়েন অনেকে। খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল, এনডিআরএফ এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করে। একের পর এক শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হলেও কয়েক জনের খোঁজ মিলছিল না। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন শিরচাঁদ কুমার।

সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ হয়েছে। আহত কয়েক জন এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, সদ্য ঢালাই করা কংক্রিটের অতিরিক্ত চাপের জেরে নির্মাণাধীন পরিকাঠামোর লোহার বিম ও ধাতব চাদর ভেঙে পড়ে। এর জেরেই মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক। টানা চার দিন ধরে উদ্ধার অভিযান চললেও এখনও ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরানো যায়নি। উদ্ধারকারী দল শেষ পর্যায়ের তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 1 =