২০-২৫ কোটি না মিললে টিভিকে ‘না’, ইউটিউবেই আইএসএলের সব ম্যাচ ? 

ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ পেশাদার লিগ আইএসএলকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। প্রথমে সেপ্টেম্বরে প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে অক্টোবরে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় ১৩টি অংশগ্রহণকারী ক্লাব একমত হয়েছে যে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ১০ অক্টোবর থেকে নতুন মরশুমের আইএসএল শুরু করা হবে। তবে শুধু সূচি নয়, এবারের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে টুর্নামেন্টের সম্প্রচার ব্যবস্থা। আইএসএলের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রত্যাশিত আর্থিক প্রস্তাব মেলেনি। জানা গিয়েছে, ফ্যানকোড ছাড়া অন্য কোনও সংস্থা উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখায়নি। ফ্যানকোডও সম্প্রচার স্বত্বের জন্য অর্থ দিতে রাজি নয়; তারা শুধুমাত্র প্রোডাকশনের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। পাশাপাশি কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে ক্লাবগুলির আলোচনা হলেও সেখান থেকে মাত্র ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার প্রস্তাব এসেছে। এই অঙ্ককে পর্যাপ্ত মনে করছে না আইএসএলের ক্লাবগুলি।
ক্লাবগুলির স্পষ্ট অবস্থান, অন্তত ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার চুক্তি না হলে কোনও টিভি চ্যানেলের হাতে সম্প্রচার স্বত্ব তুলে দেওয়া হবে না। সেই ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হবে আইএসএলের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল। সেখান থেকেই প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। অর্থাৎ, প্রচলিত টেলিভিশন সম্প্রচারের পরিবর্তে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পিছনে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কারণ নয়, রয়েছে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও। ক্লাবগুলির মতে, ইউটিউবে ম্যাচ সম্প্রচার হলে কত দর্শক নিয়মিত আইএসএল দেখছেন, তার নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। এতদিন টিভি সম্প্রচারের কারণে প্রকৃত দর্শকসংখ্যার সঠিক পরিসংখ্যান ক্লাবগুলির হাতে ছিল না। ভবিষ্যতে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির সময় এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বেশি দর্শক থাকলে পরবর্তী মরশুমে আরও ভালো আর্থিক চুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
শুধু ম্যাচ দেখানোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না নতুন ইউটিউব চ্যানেল। ক্লাবগুলি সেখানে নিয়মিত অনুশীলনের ভিডিও, কোচ ও ফুটবলারদের সাক্ষাৎকার, দলীয় আপডেট, বিশেষ অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন পর্দার আড়ালের মুহূর্তও প্রকাশ করবে। এর ফলে সমর্থকদের সঙ্গে ক্লাবগুলির যোগাযোগ আরও দৃঢ় হবে। একই সঙ্গে ইউটিউব থেকে বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য উৎসের মাধ্যমে যে আয় হবে, তা ক্লাবগুলির মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এটি আর্থিকভাবেও লাভজনক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে ভারতীয় ফুটবলের প্রশাসনিক পরিস্থিতিও এই অনিশ্চয়তার অন্যতম কারণ। ক্লাবগুলির ধারণা, ফেডারেশনের নির্বাচন এবং নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার আগে পর্যন্ত আইএসএলকে পুরোপুরি পেশাদার কাঠামোয় পরিচালনা করা কঠিন হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নিলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তাই বর্তমান মরশুমকে ক্লাবগুলি অনেকটা পরীক্ষামূলক হিসেবে দেখছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ম্যাচ সম্প্রচার কোনওভাবেই ফেডারেশনের ইউটিউব চ্যানেলে করা হবে না। ক্লাবগুলির নিজস্ব উদ্যোগে সম্পূর্ণ আলাদা একটি অফিসিয়াল আইএসএল ইউটিউব চ্যানেল চালু করা হবে। এর মাধ্যমে সম্প্রচার এবং ডিজিটাল আয়ের উপর ক্লাবগুলির নিয়ন্ত্রণও বজায় থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 − 3 =