জেহাদি কার্যকলাপের তদন্তে বাঁকুড়ায় এনআইএ-র তল্লাশি

বাঁকুড়া : জঙ্গি কার্যকলাপের তদন্তে এবার বাঁকুড়ায় তল্লাশি চালাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। আইএসআইএস ও আল-কায়েদার জেহাদি মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগে ধৃত মীর আসিফ আলির খাতড়ার খড়বন মোড় এলাকার বাড়িতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান চালায় এনআইএ।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মার্চ মাসে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ জঙ্গি কার্যকলাপের অভিযোগে মীর আসিফ আলিকে গ্রেফতার করে। পরে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে এনআইএ। তদন্তে উঠে আসে, বাঁকুড়ায় বসেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জেহাদি মতাদর্শ প্রচার, জঙ্গি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং রাজ্যে জঙ্গি মডিউল গড়ে তোলার কাজে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ।

বৃহস্পতিবার রাতে এনআইএ আধিকারিকরা মীর আসিফ আলির পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং বাড়িতে তল্লাশি চালান। অভিযান চলাকালীন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে।

এনআইএ সূত্রের দাবি, বিদেশে বসে সক্রিয় জঙ্গি হ্যান্ডলাররা অনলাইনের মাধ্যমে দেশের যুব সমাজকে লক্ষ্য করে আইএসআইএস ও আল-কায়েদার জেহাদি মতাদর্শ ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ভুয়ো তথ্য ও প্রচারের মাধ্যমে যুবকদের দেশবিরোধী কার্যকলাপে প্ররোচিত করার অভিযোগও রয়েছে। সেই চক্রের সঙ্গে মীর আসিফ আলির যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, একই তদন্তের সূত্রে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পশ্চিমবঙ্গ-সহ অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, কর্ণাটক, বিহার, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট , রাজস্থান ও দিল্লি মিলিয়ে মোট ২০টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায় এনআইএ।

তদন্তকারীদের দাবি, অন্ধ্রপ্রদেশে গ্রেফতার হওয়া একাধিক অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিদেশে থাকা জঙ্গি হ্যান্ডলারদের একটি অনলাইন নেটওয়ার্কের হদিস মিলেছে। সেই সূত্র ধরেই এই অভিযান। তদন্তে আল হাকিম সুকুর ও মহম্মদ রহমতুল্লা শরিফ নামে দুই সন্দেহভাজন জঙ্গির নামও উঠে এসেছে, যারা অনলাইনে যুবকদের জেহাদি মতাদর্শে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ।

এদিকে, খাতড়ার খড়বন মোড় এলাকায় এনআইএ-র তল্লাশির খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায়। বহু কৌতূহলী মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, মার্চ মাসে মীর আসিফ আলি গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। এবার এনআইএ-র তল্লাশি এবং নথি উদ্ধারের ঘটনায় সেই জল্পনা আরও বেড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + twenty =