হাওড়া : রেলের জমিতে বেআইনি দখলের বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল রেল কর্তৃপক্ষ। তবে এবার শুধু অবৈধ দোকানপাট নয়, খোদ থাকার ঝুপড়ি এবং বস্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। মঙ্গলবার সাতসকালে হাওড়ার টিকিয়াপাড়া বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় চলল রেলের বুলডোজার। বিশাল পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে শুরু হয় এই উচ্ছেদ অভিযান। মাত্র ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই পুরো এলাকা সাফ করে দেয় প্রশাসন।
দক্ষিণ-পূর্ব রেল সূত্রের খবর, টিকিয়াপাড়া থেকে হাওড়াগামী লাইনের পাশেই রেলের এক বিস্তীর্ণ জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেই জমি দখল করে বেআইনিভাবে ঝুপড়ি বানিয়ে বসবাস করছিল কম-বেশি ১০০টি পরিবার। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, টিকিয়াপাড়ায় রেললাইনের ধারে একটি বড় নর্দমা রয়েছে, যার ওপর এই ঝুপড়িগুলো গড়ে উঠেছিল। নর্দমা ঢাকা থাকায় বর্ষার সময়ে তা পরিষ্কার করা যেত না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রেললাইনে জল জমে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হতো। আসন্ন বর্ষার আগে সেই সব নর্দমা পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যেই মূলত এই বস্তি উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। রেলের আরও দাবি, বাসিন্দাদের বহুবার নোটিস দিয়ে জমি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি।
মঙ্গলবার সকালে উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগে গোটা এলাকা কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রথমে রেলের তরফে মাইকিং করে অবৈধ দখলদারদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং নিজস্ব জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময়ও দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও বাসিন্দারা নিজে থেকে ঝুপড়ি সরাননি। এর পরেই আসরে নামে বুলডোজার। চোখের পলকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একের পর এক ঝুপড়ি ও অবৈধ দোকানপাট।
এর আগেও নোটিস জারি করে হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনের পাশাপাশি দমদম, হাবরা ও যাদবপুরেও অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রেল। তবে ঝুপড়ি উচ্ছেদের ঘটনা এবারই প্রথম। রেললাইনের ধার থেকে অবৈধ দখলদার ও হকার হঠানোর এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। হাওড়া বা শিয়ালদহের মতো স্টেশন চত্বর হকারমুক্ত করায় খুশি সাধারণ যাত্রীদের একাংশ। তাঁদের মতে, এর ফলে স্টেশনের পরিবেশ খোলামেলা হবে এবং ব্যস্ত সময়ে যাতায়াতে সুবিধা হবে। হকারদের দৌরাত্ম্য কমলে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সহজ হবে।
অন্যদিকে, আকস্মিক এই উচ্ছেদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বস্তিবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করেই এভাবে উচ্ছেদ চালানো সম্পূর্ণ বেআইনি। মাথার ছাদ হারিয়ে কার্যত খোলা আকাশের নিচে এসে দাঁড়িয়েছেন ১০০টি পরিবার।
মেগা এই উচ্ছেদ অভিযানের পর টিকিয়াপাড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হলেও, রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নিকাশি ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং যাত্রী সুরক্ষায় এই ধরণের অভিযান আগামীদিনেও জারি থাকবে।

