লখনউ : লখনউয়ের আলিগঞ্জ কোচিং সেন্টার ও কর্মাশিয়াল বিল্ডিংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য দুই সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার গৌরব কুমার, অনিল কুমার ও প্রমোদ কুমার এবং ফায়ার সেফটি অফিসার কমলেন্দ্র কুমার—এই চার আধিকারিককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী। উল্লেখ্য, ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ওই ভবনের এক মালিকও রয়েছেন।
মঙ্গলবার ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে। কেজিএমইউ-এর মুখপাত্র কে কে সিং জানিয়েছেন, “পাঁচজন শিক্ষার্থীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, কারণ তাদের আঘাত গুরুতর ছিল না এবং তা ছিল সামান্য। তবে গুরুতরভাবে আহত দু’জন শিক্ষার্থী এখনও চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে একজন হলো লাভপ্রীত নামের এক ছাত্রী, যার বাম উরুতে আঘাত লেগেছিল।
তার এক্স-রে করা হয়েছে এবং কোনও হাড় ভাঙার চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার অভিভাবকরা দিল্লি থেকে আসছেন। তাকেও হয়তো ছেড়ে দেওয়া হবে অথবা অন্য কোথাও স্থানান্তরিত করা হতে পারে। দ্বিতীয়জন হলো জয়ন্ত নামের এক ছাত্র, যার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। সে ওপরের তলা থেকে লাফ দিয়েছিল। ঈশ্বরের কৃপায় সে প্রাণে বেঁচে গেলেও নিচে পড়ার সময় একটি লোহার রড তার কোমরের নিচের অংশে বিঁধে যায়, যার ফলে তার মেরুদণ্ডে আঘাত লাগে।
এর ফলে তার শরীরের নিচের অংশ বর্তমানে অসাড় হয়ে আছে। রাতে করা সিটি স্ক্যানে তার স্নায়ু ও মেরুদণ্ডে আঘাত এবং ফোলা ভাব ধরা পড়েছে। তার একটি এমআরআই করার কথা রয়েছে; এর মাধ্যমেই বোঝা যাবে যে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে, নাকি কেবল ওষুধের মাধ্যমেই তার চিকিৎসা সম্ভব হবে।”

