লিয়োনেল মেসিকে তাড়া করছেন কিলিয়ান এমবাপে। মঙ্গলবার ভারতীয় সময় রাতে মিরোস্লাভ ক্লোজ়েকে টপকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের মালিক হয়েছেন মেসি। কয়েক ঘণ্টা পর ক্লোজ়েকে ছুঁয়ে ফেললেন এমবাপে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনিও করে ফেললেন ১৬ গোল। ছাপিয়ে গেলেন ব্রাজ়িলের রোনাল্ডোকে।
প্রত্যাশা মতোই ইরাককে ৩-০ গোলে হারাল ফ্রান্স। আরও এক বার জোড়া গোল করলেন এমবাপে। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে আমেরিকার আবহাওয়া। দেড় ঘণ্টার ম্যাচ চলল ৪ ঘণ্টা ধরে। ১৫ মিনিটের বিরতি বেড়ে হল ১৩১ মিনিটের। ফলে যে খেলা ভারতীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ শেষ হয়ে যাওয়া উচিত তা শেষ হল প্রায় সাড়ে ৬টায়।
ফিলাডেলফিয়াতে যে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে তা আগেই জানা গিয়েছিল। বিরতির সময়েই জানা যায়, স্টেডিয়ামের কাছাকাছি ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। ধীরে ধীরে স্টেডিয়ামেও তা শুরু হয়। দর্শকেরা গ্যালারির ভিতরের দিকে আশ্রয় নেন। প্রবল বৃষ্টি দেখে এক এক সময় মনে হচ্ছিল, আদৌ খেলা শুরু করা যাবে তো।
আমেরিকায় এই দৃশ্য মাঝেমাঝেই দেখা যায়। ফলে সেখানকার ফুটবল স্টেডিয়ামের নিকাশি ব্যবস্থা সে ভাবেই করা। বৃষ্টি থামলে যাতে দ্রুত খেলা শুরু করা যায়। আমেরিকার এক নিয়মের ফলে খেলা শুরু হতে আরও দেরি হয়। সেই নিয়মে বলা, স্টেডিয়ামের ৮ মাইলের মধ্যে ঝড় বা বজ্রপাত হলে সঙ্গে সঙ্গে খেলা বন্ধ করে দিতে হবে। ঝড়বৃষ্টি থামার পর ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। যদি তার মধ্যে বজ্রপাত না হয় তো খেলা শুরু হবে। যদি এক বারও বজ্রপাত হয় তা হলে আরও ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এই নিয়মের জন্যই দেড় ঘণ্টার ম্যাচ দাঁড়ায় চার ঘণ্টায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি দীর্ঘতম ম্যাচ।
ঝড়বৃষ্টির আগে ও পরে দু’বার ঝড় তুললেন এমবাপেও। ১৪ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরাল শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপে। তাঁর শটের কোনও জবাব গোলরক্ষকের কাছে ছিল না। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ইরাক যে প্রতিআক্রমণের উপরেই ভরসা করবে, তা আগে থেকেই বোঝা গিয়েছিল। ম্যাচেও তা দেখা গেল। কিন্তু প্রতিআক্রমণ করে ফ্রান্সের রক্ষণ তারা ভাঙতে পারল না।

