অপ্রতিরোধ্য মেসি! জোড়া ফলায় বিদ্ধ অস্ট্রিয়া

তখনও স্কোরবোর্ড ০-০, গ্যালারিতে দেখাল এক অস্ট্রিয়ান সমর্থককে। তাঁর গায়ে লেখা,”হু ইজ মেসি?  উত্তরটা নিশ্চয়ই পরের মিনিট দশেকের মধ্যে পেয়ে গিয়েছেন সেই সমর্থক। আজ জোড়া গোল করলেন মেসি। ভাঙলেন ক্লোজের  রেকর্ড। ১৮ গোল করে বিশ্বকাপে এখন সর্বোচ্চ গোলদাতা লিও। তাঁর গোলেই অস্ট্রিয়াকে ২-০ হারিয়ে নক আউটের টিকিট কনফার্ম করে ফেললেন গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

আজকের ডালাস স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু আগে থেকেই বোঝা গিয়েছিল ছবিটা। ৯০% নীল-সাদা সমর্থক, টিকিটের হাহাকার – এসব দৃশ্য দেখে অভ্যস্ত কলকাতা ময়দান। তবে, যেভাবে মেসিকে নিয়ে উন্মাদনা তাঁর শেষ বিশ্বকাপে একপ্রকার হাহাকারে পরিণত হয়েছে, তা দেখে বোঝাই যাচ্ছে, ৩৯ বছর বয়সী মায়ামিবাসীর ঐশ্বরিক ক্ষমতা।

অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৮ মিনিটের মাথায় লাউতারো মার্টিনেজকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন অস্ট্রিয়ার দুই ফুটবলার। ভার দেখে সিদ্ধান্ত বদল করেন রেফারি। দেন পেনাল্টি। কিন্তু পেনাল্টি মিস করলেন লিও। এরপর থেকেই ক্রমাগত চাপ বাড়াতে থাকে অস্ট্রিয়া কিন্তু আর্জেন্টিনার শক্ত ডিফেন্সের কাছে বারবার আটকে যায় অস্ট্রিয়া। ৩৮ মিনিটের মাথায় এল সেই সোনালী মুহূর্ত। মেদিনার বল পেয়ে দুরন্ত শটে গোল করলেন মেসি। তাঁর পায়ের জাদুতেই আলজেরিয়ার পর পরাস্ত হল অস্ট্রিয়া। এরপরেও বেশ কিছু সুযোগ পেলেও পরাস্ত আলাবার দল।

সুযোগ আবার এল ৯০+৫ মিনিটের মাথায়। আক্রমণ থেকে দুরন্ত সুযোগ পেয়েছিলেন আলভারেজ। তিনি মেসিকে বল বাড়ালেও দুই বার অস্ট্রিয়া কিপারের কাছে পরাস্ত হলেও শেষ মুহূর্তে ফলো থ্রুতে গোল করে দিলেন মেসি। এই গোলের সঙ্গেই ১৮ নম্বর গোল করে ফেললেন তিনি। শেষের দিকে আর্জেন্টিনা একটি ফ্রি কিক পেলেও গোল করতে ব্যর্থ হন ফুটবলের রাজপুত্র।

প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক। আজ অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল। বিশ্বকাপে আপাতত অব্যাহত মেসি ম্যাজিক। আজ গ্যালারিতে দেখা গেল একজন ১০০ বছর বয়সী মেসি ভক্তকে। যাঁর কাছে বয়স বাধা নয়, তাই তিনি বয়সের ভরে ন্যুব্জ হলেও ঠিক চলে এসেছেন স্বপ্নের নায়ককে শেষবারের জন্য দেখতে। এটাই তো ভালবাসা। এটাই তো আবেগ। যে আবেগ তাড়িয়ে নিয়ে যায় দমদম থেকে ডালাস, বিহার থেকে বার্সেলোনা, রোজারিও থেকে রাঁচি। যে আবেগের অংশ হয়ে কোনও এক শ্যামনগরের বাসিন্দা নিজের বাড়ির রং করতে পারেন নীল-সাদা। যে আবেগের টান জীবনে আমেরিকার ফুটবল না দেখা ছেলে-মেয়েটাকেও কিনতে বাধ্য করে ইন্টার মায়ামির জার্সি। সেই আবেগের নাম একটাই। লিওনেল আন্দ্রেজ মেসি। একটা গোটা ফুটবল বিশ্ব যাঁকে ঈশ্বরের বরপুত্র নামে চেনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven − 3 =