কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে ‘জনগণনায় জনসচেতনতা’ অভিযানের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার রাজ্য সচিবালয় নবান্নের নিকটবর্তী নবান্ন সভাগৃহে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এরপর নবান্নে আয়োজিত একটি সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রিন্সিপাল সেন্সাস অফিসারও উপস্থিত ছিলেন। এর সঙ্গেই রাজ্যে জনগণনার প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়ে গেল।
উল্লেখ্য, দেশজুড়ে ডিজিটাল জনগণনার প্রস্তুতি অনেক আগে শুরু হলেও পশ্চিমবঙ্গে সেই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত গতি এলো রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর। রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে জনগণনা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর থেকেই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ বারই প্রথম দেশে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা সম্পন্ন হতে চলেছে।
প্রসঙ্গত, এই সচেতনতা প্রচারে রাজ্যের তরফে সামনে আনা হয়েছে দুই ম্যাসকট ‘বিকাশ’ ও ‘প্রগতি’-কে। প্রশাসনের দাবি, রাজ্যের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রতীক হিসেবেই এই দুটি চরিত্রকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় নাগরিকেরা নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে নিজেরাই ‘সেলফ এনুমারেশন’ বা স্ব-নথিপত্রকরণ করতে পারবেন। এর পাশাপাশি সরকারি কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোবাইল ডিভাইসের সাহায্যে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করবেন।
এই প্রেক্ষাপটে জানানো হয়েছে, জনগণনার প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হবে আগামী ১ অগস্ট থেকে এবং তা চলবে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। জনগণনা সংক্রান্ত যে কোনো সহায়তার জন্য একটি টোল ফ্রি নম্বর— ১৮৫৫ চালু করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের দাবি, সাইবার সুরক্ষার সমস্ত নিয়ম কঠোরভাবে মেনে নাগরিকদের গোপন তথ্য সম্পূর্ণ সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করা হবে।

