ওয়াশিংটন/তেহরান : পশ্চিম এশিয়া ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, পাকিস্তান, জর্ডন, মিশর, তুরস্ক ও বাহরিনের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করার পর ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালী খুলতে সম্মত হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তা স্বাভাবিক হবে। একই সঙ্গে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির খসড়া তৈরির কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।
ওই বৈঠকের পর ট্রাম্প ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-র সঙ্গেও কথা বলেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে হওয়া আলোচনার বিস্তারিত তথ্য ভাগ করে নেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লেখেন, “চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া।” তবে তিনি এটাও জানান, এখনও আমেরিকা, ইরান ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির প্রতিনিধিদের মধ্যে শেষ মুহূর্তের আলোচনা চলছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় সহায়তা চালিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে আমেরিকা-ইরান বৈঠকের আয়োজনও করতে পারে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোয়ান বলেন, আলোচনায় অগ্রগতিতে আঙ্কারা সন্তুষ্ট এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে শীঘ্রই স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মিশরও কূটনৈতিক উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করেছিলেন যে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হলে আমেরিকা পূর্ণ শক্তিতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাবে। পরে আরব দেশগুলির অনুরোধে সেই হামলা স্থগিত রাখা হয় বলে জানা গেছে।
তবে আমেরিকার উপর এখনও পুরোপুরি ভরসা করতে পারছে না তেহরান। ইরানের অভিযোগ, আমেরিকা এখনও তাদের বন্দরগুলির উপর থেকে সামরিক অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করেনি। সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া, বিদেশি ব্যাঙ্কে আটকে থাকা ইরানের সম্পদের একাংশ মুক্ত করা-সহ একাধিক বিষয় রয়েছে বলে খবর।
এদিকে ট্রাম্পের ‘হরমুজ পুরোপুরি খুলে দেওয়া’ মন্তব্যের বিরোধিতা করেছে ইরান। ইরানের অর্ধ-সরকারি সংবাদসংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হত। ইরান জানিয়েছে, জাহাজ চলাচল আগের স্তরে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তারা সম্মত হলেও, তার অর্থ এই নয় যে যুদ্ধপূর্ব অবস্থার মতো সম্পূর্ণ অবাধ চলাচল আবার চালু হবে।

