কলকাতা : মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে উত্তরবঙ্গের আট জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের ১৪ জন বিধায়ককে বুধবার শিলিগুড়িতে আয়োজিত প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক সৌজন্য এবং গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের এক তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।
মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয়ের এক আধিকারিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের আটটি জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসই একমাত্র বিরোধী দল, যাদের নির্বাচিত বিধায়করা রয়েছেন। সেই কারণেই এই ১৪ জন বিধায়ককে সরকারি বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিশেষ আগ্রহ ও নির্দেশেই বিরোধী দলের বিধায়কদের এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনপরিষেবা ও উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ এবং তাঁদের গঠনমূলক পরামর্শ নেওয়া সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অঙ্গ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী পরোক্ষভাবে পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন। ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বা সরকারি কর্মসূচিতে বিরোধী দলের বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানোর রেওয়াজ কার্যত ছিল না। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অতীতে বামফ্রন্ট আমলের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সময়ে সরকারি কর্মসূচিতে বিরোধী বিধায়কদের ডাকার এই সুস্থ ঐতিহ্য বজায় ছিল, যা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান বিজেপি সরকার সেই পুরনো গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকেই ফের ফিরিয়ে আনল।
বর্তমানে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ১৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। এর মধ্যে কোচবিহার থেকে একজন, উত্তর দিনাজপুর থেকে পাঁচজন, দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে দুজন এবং মালদা জেলা থেকে ছয়জন বিধায়ক আছেন। অন্যদিকে, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় তৃণমূলের কোনো বিধায়ক নেই।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, শিলিগুড়ির এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক শেষ করে বুধবার দেরিতে কলকাতায় ফিরতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতায় ফিরে তিনি সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবেন এবং বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারবিহীন এলাকাগুলিতে দ্রুত বেড়া দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন।

