পূর্ব মেদিনীপুর : নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে ৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ জন জওয়ান বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। মোট ৭৯টি সংবেদনশীল বুথে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার এবং পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিমতৌড়িতে অবস্থিত জেলাশাসক কার্যালয়ে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। জেলাশাসক জানান, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ৪১৯ জন। পুরো কেন্দ্রে মোট ৩২৩টি পোলিং স্টেশন বা বুথে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত করার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটারের কাছে ভোটকর্মী বা ‘ভোটার স্লিপ’ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে সমস্ত পোলিং বুথেই প্রধানত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা মোতায়েন থাকবেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং এলাকা সচল রাখতে রাজ্য পুলিশের সদস্যরা কাজ করবেন। নির্বাচন কেন্দ্রজুড়ে নাকা চেকিং, রুট মার্চ এবং প্রহরার মাত্রা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় কুইক রেসপন্স টিম, সেক্টর ফোর্স এবং অন্যান্য বিশেষ উদ্ধারকারী ও নজরদারি দল সদা সক্রিয় থাকবে।
জেলাশাসক আরও জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে মোট ১০২টি অভিযোগ জমা পড়েছিল, যার সবকটিরই প্রশাসনিকভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচন উপলক্ষে নজরদারি চালিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৯৭ লক্ষ টাকা নগদ এবং ৫ হাজার ৮৯৩ লিটার বেআইনি মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, বিগত দুই মাসে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে ৩০০টিরও বেশি অ-জামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে। নন্দীগ্রাম ছাড়াও সমগ্র জেলাজুড়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তাঁদের কাছে আসেনি। তবে কোথায় কোনো আইনশৃঙ্খলার ব্যাঘাত ঘটলে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে আইন অনুযায়ী মামলা রুজু, গ্রেফতার এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

