◆ পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী শ্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী ড. শারদওয়াত মুখার্জির নেতৃত্বে ‘ফিট ইন্ডিয়া সানডেজ অন সাইকেল’-এ বিশ্ব সাইকেল দিবস উদযাপন
কলকাতা : রবিবার বিখ্যাত বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (সল্টলেক স্টেডিয়াম) ‘ফিট ইন্ডিয়া সানডেজ অন সাইকেল’ কর্মসূচির আওতায় বিশ্ব সাইকেল দিবস ২০২৬-এর এক বর্ণাঢ্য উদযাপন অনুষ্ঠিত হলো, যেখানে ৫,০০০-এরও বেশি স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ ও ক্রীড়াপ্রেমী অংশ নেন।
এই অনুষ্ঠানের নেতৃত্বে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী শ্রী নিশীথ প্রামাণিক। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী ড. শারদওয়াত মুখার্জি, রাজ্যের মন্ত্রী ও ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার শ্রী অশোক দিন্দা এবং সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) সভাপতি শ্রী কল্যাণ চৌবে।
মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এসএআই)-এর নেতাজি সুভাষ ইস্টার্ন সেন্টারের আঞ্চলিক অধিকর্তা শ্রী শিবানন্দ মিশ্র এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব পরিষেবা ও ক্রীড়া বিভাগের প্রধান সচিব শ্রী রাজেশ কুমার সিনহা।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব পরিষেবা ও ক্রীড়া বিভাগের বিশেষ সচিব শ্রী দীনেশ চন্দ্র মণ্ডল এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার শ্রী অজয় নন্দ। এছাড়াও বিখ্যাত অলিম্পিয়ান সোমা বিশ্বাস এবং বোম্বাইলা দেবী লাইশরাম এই উদযাপনে অংশ নেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী ড. মনসুখ মান্ডভিয়া কর্তৃক সূচিত ‘ফিট ইন্ডিয়া সানডেজ অন সাইকেল’ কর্মসূচিটি বর্তমানে সাইকেল চালানোর মাধ্যমে শারীরিক সুস্থতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং পরিবেশ সচেতনতা প্রসারের লক্ষ্যে একটি দেশব্যাপী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
মূল সাইকেল র্যালি ছাড়াও অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বিনোদনমূলক ও শারীরিক কসরত-ভিত্তিক কার্যকলাপে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেন; এর মধ্যে ছিল যোগব্যায়াম, দড়ি লাফ (rope skipping), জুম্বা, ডার্টস, সাপ-লুডু, লুডু এবং অন্যান্য মজাদার চ্যালেঞ্জ।
সমবেত জনতাকে উদ্দেশ্য করে ভাষণ দেওয়ার সময় শ্রী নিশীথ প্রামাণিক সারা দেশে সুস্থতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। «“এটি ভারত সরকারের একটি অনন্য উদ্যোগ। ফিটনেস বা শারীরিক সুস্থতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সবাইকে সক্রিয় থাকতে উৎসাহিত করে। ফিটনেস-সংক্রান্ত বিষয়গুলোর জন্য চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে সাইকেল চালানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। মাত্র ৩০ মিনিটের সাইকেল চালানো স্বাস্থ্যের উন্নতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের আয়োজন ২০৩৬ সালে ভারতে অলিম্পিক গেমস আয়োজনের আমাদের আকাঙ্ক্ষাকেও আরও শক্তিশালী করবে। এই মহৎ উদ্দেশ্যে যারা একত্রিত হয়েছেন এবং একটি অধিকতর ফিট ও সুস্থ ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন, তাদের সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই,” তিনি বলেন।»
মন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে ক্রীড়া পরিকাঠামো ও পরিবেশকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করেন। এর মধ্যে রয়েছে রাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক পদকজয়ীদের জন্য নগদ পুরস্কারের পরিমাণ বৃদ্ধি; এখন থেকে স্বর্ণপদকজয়ীরা ৮ কোটি টাকা, রৌপ্যপদকজয়ীরা ৭ কোটি টাকা এবং ব্রোঞ্জপদকজয়ীরা ৬ কোটি টাকা পুরস্কার পাবেন। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, যোগ্য ক্রীড়াবিদদের তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরি দেওয়া হবে, যার সর্বোচ্চ পদমর্যাদা হবে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (ডিএসপি)-এর সমান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় ড. শারদওয়াত মুখার্জি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ‘ফিট ইন্ডিয়া সানডেজ অন সাইকেল’-এর মতো উদ্যোগগুলো পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া-রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে।
একটি ফিট ও সুস্থ ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর যে ভিশন বা লক্ষ্য রয়েছে, তার প্রতি আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর আগে কোনো প্রধানমন্ত্রীই ‘ফিট ইন্ডিয়া’ এবং ‘খেলো ইন্ডিয়া’-র মতো এমন যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেননি, যা সারা দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে,” তিনি বলেন।»
দেশব্যাপী এই সাইক্লিং আন্দোলনে ইতিমধ্যেই ৩০ লক্ষেরও বেশি ফিটনেস-উৎসাহী মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন, যা এর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও প্রভাবকেই তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানস্থলে একটি বিশেষ ক্রীড়া ও কার্যকলাপের জোনও তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের পুশ-আপ প্রতিযোগিতা, জাম্পিং চ্যালেঞ্জ, ডার্ট প্রতিযোগিতা এবং ঐতিহ্যবাহী ইনডোর গেমসের মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়।
‘ফিট ইন্ডিয়া সানডেজ অন সাইকেল’ কর্মসূচিটি ভারত সরকারের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রক (MYAS) কর্তৃক স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (SAI)-এর সহযোগিতায় এবং সাইক্লিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (CFI)-এর সক্রিয় অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজনে ২৫০ জনেরও বেশি ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (NCC) ক্যাডেটের পাশাপাশি ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম (NSS), বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF), সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (CISF), ভারতীয় সেনাবাহিনী, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF), পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা ও এর আশেপাশের বহু স্কুলের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করে।
ফিটনেসকে একটি গণ-আন্দোলনে পরিণত করার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করতে, এসএআই (SAI)-এর আঞ্চলিক কেন্দ্র, ন্যাশনাল সেন্টারস অফ এক্সিলেন্স (NCOEs), এসএআই ট্রেনিং সেন্টার (STCs), খেলো ইন্ডিয়া স্টেট সেন্টারস অফ এক্সিলেন্স (KISCEs) এবং খেলো ইন্ডিয়া সেন্টার (KICs)-এর মাধ্যমে দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একযোগে এই সাইক্লিং কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়।

