পরীক্ষা শেষে কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়! ভাবনা? রইল কালিম্পংয়ের অফবিট গ্রামের খোঁজ

সামনেই মাধ্যমিক। তারপরেই উচ্চ মাধ্যমিক। পরীক্ষা শেষে না ঘুরতে গেলে হয়? আবার দেখতে দেখতে স্কুলে গরমের ছুটিও পড়বে। তাই পাহাড়ই তখন অন্যতম ডেস্টিনেশন।

কিন্তু যাবেন কোথায়? অফবিট কোনও জায়গার সন্ধান চাইছেন? যেখানে প্রকৃতির কোলে পায়ে হেঁটে আশপাশে ঘোরা যাবে। মেঘের চাদর আর ঠান্ডা উপভোগ করা যাবে আগুন পোহাতে পোহাতে, চিকেন বারবিকিউ-এর স্বাদ নিয়ে।

কালিম্পংয়ের এমনই কিছু জায়গার হদিশ রইল

কাফের গাঁও

কালিম্পং থেকে মাত্র ৪৫ কিমি দুরে অবস্থিত এই কাফের গাঁও, এই কাফের গাঁও এর উচ্চতা প্রায় ৫৩০০ ফিট। কাফের নামটি এসেছে লেপচা ভাষা থেক, এখানে পাওয়া যাওয়া এক ধরনের ফুলের নাম লেপচা ভাষায় কাফের সেখান থেকে এই গ্রামের নাম। পাহাড়ের কোলে অসম্ভব সুন্দর এই গ্রামটিতে বেশ কয়েকটি হোম স্টে রয়েছে। পায়ে হেঁটে গ্রাম ঘুরতেই পারেন।এমন শান্ত পাহাড়ি গ্রামে এসে চখের সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা উপলব্ধি করতে পারলে মন এমনি শান্ত হয়ে যাবে , কাফের গাঁও এর মুল আকর্ষণ হল এখান থেকে দেখতে পাওয়া পাহাড়ের (ঘুমন্ত বুদ্ধ) রূপ আর তারই সঙ্গে মন ভোলানো সূর্যোদয় । এছাড়া গাড়ি করে লাভা, লোলেগাঁও, রিশপ, চারখোল, লোলেগাঁও, ডেলো এই সমস্ত জায়গা ঘুরে নিতে পারেন।

এখানে রয়েছে কাফের হোম স্টে-সহ একাধিক হোম স্টে। মাথাপিছু খরচ সিজন থেকে অফ সিজনে থাকাখাওয়া নিয়ে জনপ্রতি ১৩০০-১৬০০ টাকা।

কীভাবে আসবেন-এনজেপি বা নিউ মাল থেকে গাড়ি বুক করে আসতে পারেন। এছাড়া হোম স্টের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। অনেক সময় গ্রামেরই শেয়ার গাড়ি থাকে। এছাড়া পানিট্যাঙ্কি মোড় থেকে কালিম্পং আসার শেয়ার গাড়ি পেয়ে যাবেন। আবার কালিম্পং থেকে শেয়ার গাড়িতে কাফের গাঁও যেতে পারেন কিম্বা কালিম্পং থেকে হোম-স্টের গাড়ি বুক করে নিতে পারেন।

রামধুরা

পাহাড়ের কোলে ছোট্ট সুন্দর গ্রামটি কালিম্পং থেকে ১৫ কিমি দূরে। এনজেপি থেকে দূরত্ব ৮৫ কিলোমিটার।কালিম্পং এর বারমিয়াক ডিভিশনের একটি ছোট শান্ত ও নিরিবিলি গ্রাম হল রামধুরা , রামধুরা গ্রামটির উচ্চতা সুমদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫৮০০ ফিট । রামধুরা নামটি গঠিত হয়েছে হিন্দু দেবতার নাম রাম ও ধুরা মানে গ্রাম এই দুটি মিলে ।এখান থেকে দেখতে পাওয়া দূরে সবুজ পাহাড়ি উপত্যকার মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা তিস্তা নদী দৃশ্য , উচু উচু পাইন ও ধুপি গাছ, নানা রকম রং বাহারি ফুলের গাছ , বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতি-পাখি এই সব পর্যটকদের মনে এক আলাদা আকর্ষণ সৃষ্টি করে। এখান থেকে গাড়ি নিয়ে আশপাশের জায়গা ঘুরে নিতে পারেন।

থাকার জায়গা-এখানে রামধুরা ভুটিয়া হোম স্টে, নিরুশ্রী হোম স্টে, চামলিং হোম স্টে, ডেজং হোমস্টে -সহ একাধিক থাকার জায়গা আছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে ঝকঝকে আকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।চারবেলার খাওয়া ও থাকা সহ মাথা পিছু খরচ মোটামুটি ১৩০০-১৬০০ টাকার মতো।

রিকিসুম

কালিম্পং থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে এই রিকিসুম। একেবারে নিরিবিলি পাহাড়ি গ্রাম। একাধিক হোমস্টে রয়েছে এখানেও। পাহাড়ের প্রায় ৬ হাজার ফুট উচ্চতায় এই রিকিসুম থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার ৩৬০ ডিগ্রি রূপ দেখা যায় ঝকঝকে আকাশ সূর্যোদয় মনোমুগ্ধকর।রিকিসুন থেকে লাভা রিশপ, কোলাখাম অনেকেই যান। এখান থেকে কিছুটা দূরে তিস্তা নদী।এখানকার মূল আকর্ষণ রিকিসুম ভিউ পয়েন্ট। বসন্তে আশপাশে রডডেনড্রন ভরে থাকে। তবে অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার চান্স থাকে সবচেয়ে বেশি।

 

মাইরংগাঁও বা মাইরুনগাঁও

কালিম্পং থেকে মাইরুনগাঁওয়ের দূরত্ব ২২ কিলোমিটার। আলগাড়া থেকে ৮ কিমি। নিউ মাল জংশন স্টেশন থেকে ৮০ কিমি।পাহাড়ের কোলে ছোট্ট শান্ত গ্রাম মাইরুংগাঁও। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ঝকঝকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হয়। এখান থেকে ঘুরে নেওয়া যায় আশপাশের ঝরনা ও ভ্যালি।কেউ সিল্করুট যেতে চাইলে এখানে একরাত কাটিয়ে আরিটার বা সিল্ক রুটের দিকে যেতে পারেন। এখান থেকে লাভা, লোলেগাঁও, রিশপ, চারখোল সবই ঘোরা সম্ভব।

এখানেও একাধিক হোম স্টে রয়েছে। এনজেপি থেকে কালিম্পং পর্যন্ত শেয়ারে গিয়ে হোম স্টের গাড়ি বুক করে চলে যেতে পারেন। নয়তো আলগারা হয়েও যেতে পারেন।

 

চারখোল

কালিম্পং থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের বুকে আর এক ছবির মতো সুন্দর গ্রাম চারখোল। পাহাড়ি ফুলের শোভায় কাঠের ছোট ছোট হোম স্টে। পাখির ডাক। কুয়াশা-মেঘের খেলায় ভরা গ্রামটিতে বড্ড মায়া আছে। আর আকাশ পরিষ্কার থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘার হাতছানি আছেই।পায়ে হেঁটে এক্সপ্লোর করতে পারেন গ্রাম, গ্রামের মানুষ, এখানকার সংস্কৃতি। চাইলে গাড়ি নিয়ে কোলাখাম, রিশপ,লাভা, লোলেগাঁও দিব্যি ঘুরে আসতে পারেন।

কীভাবে আসবেন-সরাসরি হোম স্টে-তে বলে দিলে ওঁরা গাড়ি পাঠিয়ে দেবেন। নয়তো এনজেপি থেকে শিলিগুড়ি হয়ে শেয়ার গাড়িতে কালিম্পং চলে যেতে পারেন। কালিম্পং থেকে হোম স্টের পাঠানো গাড়িতে গ্রামে চলে যেতে পারেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *