বিকশিত হওয়ার দিকে এগিয়ে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ : শুভেন্দু অধিকারী

কলকাতা : বিকশিত হওয়ার দিকে এগিয়ে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার কলকাতায় ‘গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’ এবং ‘যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেড’-এর বিভিন্ন প্রকল্পের ভূমিপুজো করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। শুভেন্দু বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের আগের সরকারের কেন্দ্রীয় সরকার অথবা বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে সহযোগিতা করার কোনও ইচ্ছাই ছিল না, যার ফলে রাজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে—জমি, মানবসম্পদ, পরিকাঠামো, কাঁচামাল এবং আরও অনেক কিছু। কিন্তু এখন, ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকার পূর্ণ গতিতে কাজ করছে। আগে বাংলায় এই ‘ডাবল-ইঞ্জিন’-এর অভাব ছিল। স্বাধীনতার আগে ও পরে— উভয় সময়েই দেশের বিনিয়োগ ও অর্থনীতিতে পশ্চিমবঙ্গ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অথচ, ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসন এবং ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের আমলে সর্বদা বিরোধিতার মানসিকতাই প্রাধান্য পেয়েছে। ৫০ বছর পর অবশেষে সেই নেতিবাচকতার অবসান ঘটেছে। নরেন্দ্র মোদী এবং আমার নেতা, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর নেতৃত্বে আমরা বাংলাকে নতুন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করছি। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত যখন একটি বিকশিত দেশ বা ‘বিকশিত ভারত’-এ পরিণত হবে, তখন পশ্চিমবঙ্গও উন্নত হবে। আমরা এই লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই এগিয়ে চলেছি।”

শুভেন্দু আরও বলেন, “নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ১০৬ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা, বিশেষ করে সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছি, তার মধ্যে অন্যতম ছিল কাঁটাতারের বেড়াবিহীন কিছু অংশের বিষয়টি সুরাহা করা। এটি কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়; সীমান্তের কাছে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করা একটি দেশপ্রেমমূলক দায়িত্ব। অথচ পূর্ববর্তী সরকার তা করতে ব্যর্থ হয়েছিল। বিধায়ক, সাংসদ, মন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে বাংলার সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়; আর এখন সকলের আশীর্বাদে আমি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি। রাজনাথ সিংজি যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সীমান্ত সংলগ্ন জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে প্রথম চিঠিটি লিখেছিলেন। সেই ঘটনাটি ছিল ২০১৬ সালের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি সেই প্রাথমিক চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু জমি হস্তান্তর করা হয়নি। আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে ইতিমধ্যেই ৯০ শতাংশ জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিয়েছি। দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার খাতিরেই আমরা এই কাজ করছি। তাছাড়া, রাজ্য সরকার তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছিল।

বিএনএস (ভারতীয় ন্যায় সংহিতা) কার্যকর করা হয়নি এবং জনগণনার কাজও থমকে ছিল। আমরা এই প্রক্রিয়াগুলো শুরু করেছি। আমাদের বিনিয়োগ প্রয়োজন; বাংলাকে নতুন করে প্রাণবন্ত ও সচল করে তোলা দরকার। বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা। এখানকার নির্মাণকারী সংস্থা, এমএসএমই এবং ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে এবং পরিবেশ অনুকূল হয়ে উঠছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাকে এখন একটি প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen + 12 =