– সত্যেন্দ্র প্রতাপ সিং
বাংলা বর্তমানে অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর অবনতির সম্মুখীন। যার মূল কারণ শিল্পের ক্ষতি এবং কৃষি ক্ষেত্রে অবহেলা। তথ্যে এইটা প্রমাণিত যে উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং দিল্লির মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বিপুল পরিমাণে আর্থিক সহায়তা করা হচ্ছে।
ঠিক বিপরীতে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই মমতা ব্যানার্জি ০১ এপ্রিল থেকে ‘যুব-সাথী’ বেকার ভাতা প্রকল্পের শুভারম্ভ করবেন। এই প্রকল্পের দ্বারা ২১-৪০ বছর বয়স অবধি যুবকদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার যদিও আগস্ট মাস থেকেই প্রকল্পের সূচনা করা হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তাঁর বাজেট ভাষণে।
কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রালয়ের একটি সরকারি তথ্য দ্বারা জানা গিয়েছে মমতা ব্যানার্জির শাসনকালে ২০১১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৬৮৯৫ টি রেজিস্টার্ড অফিস বাংলা থেকে ভিন রাজ্যে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
স্থানান্তরিত হয়ে যাওয়া কোম্পানীগুলির বর্তমান ঠিকানা অধিকাংশই মহারাষ্ট্র (১৩০৮), দিল্লি (১২৯৭), উত্তর প্রদেশের ( ৮৭৯) মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যে।
বাংলার বর্তমান পরিস্থিতির থেকে অজ্ঞাত অথবা বর্তমান পরিস্থিতিকে সুস্থ করার গুরুত্ব না দিয়ে বরং ‘যুবসাথী’ নামে প্রকল্পের শুভারম্ভ করলেন, ২০২৬ আগস্ট মাসে এটি শুরু করার সিদ্ধান্ত হলেও নতুন অর্থ বর্ষ অর্থাৎ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের শুরু হতে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন “আমরা আমাদের রাজ্য বাজেটে ৩-৪টি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেছিলাম ‘যুবসাথী’ তার মধ্যে একটি। এই প্রকল্পটি মাধ্যমিকে (দশম শ্রেণী) উত্তীর্ণ তথা ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সের যুবকদের প্রতি, সর্বাধিক ৫ বছর।
কিন্তু বাস্তবিক চিত্রে মহিলাদের ‘লক্ষীভান্ডার’ দ্বারা ভোটের প্রতি যে প্রলোভন দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছিল পারস্পরিক ‘যুবসাথী’র দ্বারা যুবকদের নির্বাচনী প্রলোভন দেওয়ার জন্যই হয়তো এই প্রকল্প।
চার মাস আগে এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে কারণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে আরো তিন মাসেরও কম সময় রয়েছে। অতএব মমতা ব্যানার্জির সরকারের এই সিদ্ধান্তকে যুবকদের নির্বাচনের প্রতি প্রলোভিত করার একটি প্রকল্প মাত্র হিসেবে সাধারণ মানুষ দেখছে।
বাস্তবচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ নিরন্তর বেকারত্বের নজির সৃষ্টি করছে।
গৌণ রূপে GDP শেয়ারে ৫.৬%-এর অবনতি এবং মুখ্য রূপে ৬৮৯৫ টি কোম্পানি ইতিমধ্যেই বাংলা ছেড়ে ভিন্ন রাজ্যের স্থানান্তরিত করেছে, এই সংখ্যাটি কেবলমাত্র ‘সংখ্যা’ নয় বরং আগামী দিনে বাংলার ভবিষ্যতে ‘শিল্পের মৃত্যু ঘন্টা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারা ভারতের GDP-তে পশ্চিমবঙ্গের অংশগ্রহণ ক্রমশ নিম্নমুখী।
পরিবর্তনের ডাক এখন পলায়ন করা অর্থব্যাবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে।
কর্মসংস্থানের পরিধি ক্রমশ কমছে এবং তাকে সুস্থ করার জন্য যে বিপুল পরিমাণের চাকরি অথবা শিল্প প্রসার বা উন্নতি কিছুই সম্ভব হয়ে উঠছে না।

