সংগীতের মাধ্যমেই সমাজের কল্যাণ, নারী দিবসে ‘সরোদ সিস্টার্স’ ত্রৈলী দত্ত ও মৈশিলী দত্তর বার্তা

রাজীব মুখোপাধ্যায়

হাওড়া: যে নারী রাঁধে, সে আবার চুলও বাঁধে, বর্তমান সমাজে সর্বক্ষেত্রে আধুনিক নারী শক্তি নিজেদের সক্ষমতার ছাপ ফেলছে। তা সে সমাজ গঠন হোক বা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজেদের দেশের  সংস্কৃতিকে তুলে ধরা , সর্বক্ষেত্রেই আজকের নারী দিবসে নারী ব্রিগেড তাদের সাফল্যের চিহ্ন , একইভাবে নিজেদের শাস্ত্রীয় সংগীত সাধনার মাধ্যমে সকলের মন জয় করে তোলার সুরেলা সফরে ব্রতী রয়েছেন দুই নারী। যারা এই রাজ্য থেকেই জি-২০ সামিটে বিশ্বের সকল রাষ্ট্র নেতাদের সামনে তুলে ধরেছেন দেশের সংস্কৃতির শিকড়কে।
নিজেদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল জি-২০ সামিটে এসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ৭৮ জন কৃতী বাদ্যযন্ত্র শিল্পীর জন্য। যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হাওড়ার শিবপুর কাসুন্দিয়ার বাসিন্দা সরোদ সিস্টার্স’ ত্রৈলী দত্ত ও মৈশিলী দত্ত।
দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে গোটা বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রনেতা, কূটনীতিকদের সামনে নিজেদের আঙুলের জাদুর স্পর্শে শাস্ত্রীয় সংগীতের সরোদ বাদ্য মূর্চ্ছনায় তাদের মুগ্ধ করেছেন। সেই চ্যালেঞ্জকে সফল করে তুলেছিলেন বাদ্য মূর্চ্ছনায় ‘সরোদ সিস্টার্স’ ত্রৈলী দত্ত ও মৈশিলী দত্ত। ছোট থেকেই দুজনের শাস্ত্রীয় সংগীতের মাধ্যমে গুরুর শিক্ষাতে পথ চলা শুরু। তারপর একে একে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নিজেদের সংগীত শিল্পী রূপে প্রতিষ্ঠিত করা, একইসঙ্গে অগুনিত শ্রোতাকে দেশের মূল সংßৃñতির সঙ্গে পরিচয় ও জুড়ে দেওয়ার মহান ব্রতী নিয়েই এগিয়ে চলেছেন।
বড় বোন ত্রৈলী বর্তমানে কলকাতার নিউ আলিপুরে সংসার সামলাচ্ছেন, ছোট বোন মৈশিলী পড়াশোনা করছেন। যদিও সব কিছু সামলে দুই বোন তাদের সংগীতের চর্চা ও পথকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন।
এক্ষেত্রে মৈশিলী বলেন, ‘বিষয়টা শুধু নারী পুরুষ নয়, সমাজের যে স্তরে যে আছেন তার চারপাশের মানুষদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই সমাজের কল্যাণ সম্ভব। একই অভিমত দিদি ত্রৈলী দত্তর। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সমাজের যে পরিস্থিতি ও পরিকাঠামো, সেখানে সংগীত সমাজকে মানসিক সুস্থ্যতা ও সদর্থক দৃষ্টি প্রদান করতে পারে। সংগীত শুধু শিল্পী তৈরি করা নয় বরং সমাজকে সচেতনতা দেওয়ার মাধ্যমে সদর্থক দৃষ্টি দেওয়াটাও একজন সংগীত শিল্পীর কর্তব্য বলেই আমি মনে করি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *