অনুপ্রবেশকারীদের প্রথমে ভোটার তালিকা থেকে, তারপর দেশ থেকে বিতাড়িত করব: অমিত শাহ

চণ্ডীগড় : ভারতের ভোটার তালিকা এবং সার্বিকভাবে এই দেশে অনুপ্রবেশকারীদের কোনো স্থান নেই বলে কড়া বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কংগ্রেস তিন কোটি অনুপ্রবেশকারীকে রক্ষা করতে সারা দেশজুড়ে র্যালি বের করছে বলে তোপ দাগেন তিনি। বৃহস্পতিবার হরিয়ানার কার্নালে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, নৈরাজ্য হটাও’ শীর্ষক এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই হুঙ্কার দেন।

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র ভাষায় নিশানা করে বলেন, “তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কের জন্য উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন, অথচ দেশের গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুতে সংসদে দাঁড়িয়ে আলোচনা করা থেকে বারবার পালিয়ে বেড়ান।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, এসআইআর ইস্যুতে বিশদ আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে এর জন্য রাহুল গান্ধীকে নিশ্চিত করতে হবে যে তিনি এবং তাঁর সঙ্গীরা সংসদে এই ইস্যুতে আলোচনা ছেড়ে পালিয়ে যাবেন না।

কংগ্রেসকে আড়াআড়ি আক্রমণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্য মাঠে নামা কংগ্রেস দাবি করছে নাকি ১৩ কোটি ভোট কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, এর মধ্যে ২.৮ কোটি ভোটারের আগেই মৃত্যু হয়েছে এবং সোয়া ছয় কোটি ভোটার অন্য রাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। এছাড়া দেশে প্রায় এক কোটি এমন ভোটার ছিলেন যাঁদের তিনটিরও বেশি স্থানে ভুয়ো নাম ছিল। অন্যদিকে প্রায় তিন কোটি এমন ভোটার রয়েছেন যাঁরা নির্বাচন কমিশনের সামনে হাজির হচ্ছেন না এবং বাস্তবেও তাঁদের কোনো অস্তিত্ব নেই। মূলত এই তিন কোটি অনুপ্রবেশকারীকে বাঁচাতেই কংগ্রেস আজ রাজপথে নেমেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ় ভাষায় ঘোষণা করেন, “সরকার এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের প্রথমে ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলবে এবং পরবর্তীতে এই দেশ থেকে বিতাড়িত করবে।” সংবিধান হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো নেতারাই যে সংসদের কথা বাইরে বলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে সবচেয়ে বেশি অপমান করছেন, সেকথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি দলীয় কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কংগ্রেসের এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে প্রচার তীব্র করার নির্দেশ দেন। অমিত শাহ কটাক্ষ করে বলেন, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস একের পর এক নির্বাচনে হারছে এবং দেশের সমস্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে তাদের প্রতিনিধিত্ব শূন্যে এসে ঠেকছে। হরিয়ানার বিরোধী দলনেতা ভূপিন্দর সিং হুড্ডাকে নিশানা করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের দিন কংগ্রেস জয়ের জন্য মিষ্টি বানিয়ে প্রস্তুত রেখেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় বিজেপি। এরপর মহারাষ্ট্র, বিহার ও দিল্লি সহ একাধিক রাজ্যে কংগ্রেস পুরোপুরি ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে।

অমিত শাহ আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তো এসআইআর ছিল না, তবুও কংগ্রেস শোচনীয়ভাবে হেরেছিল। পরপর পরাজয়ে দিশেহারা ও হতভম্ব হয়েই এখন কংগ্রেস এসআইআর-এর ওপর দোষ চাপানোর অজুহাত খুঁজছে।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হরিয়ানায় পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিং সাইনি। তিনি বলেন, হরিয়ানাতেও আজ কংগ্রেসের হাতে কোনো গঠনমূলক ইস্যু নেই। কংগ্রেস নেতারা কেবল মিথ্যার পাহাড় তৈরি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।

হরিয়ানা প্রদেশ বিজেপি সভানেত্রী ডঃ অর্চনা গুপ্তা জানান, দলের প্রতিটি কর্মী এই অভিযানের আওতায় গ্রামে গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষকে কংগ্রেসের এই মিথ্যে প্রচার সম্পর্কে সচেতন করছেন। এদিনের এই হাই-প্রোফাইল জনসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কার্নালের সাংসদ মনোহর লাল খাট্টার, বিজেপি ভারপ্রাপ্ত নেত্রী স্মৃতি ইরানি, হরিয়ানা বিধানসভার স্পিকার হরবিন্দর কল্যাণ ছাড়াও ক্যাবিনেট মন্ত্রী রাও নরবীর সিং, কৃষ্ণ বেদি, কৃষ্ণ লাল পানোয়ার, মহিপাল ধান্ডা সহ একাধিক শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four + eight =