চা তৈরির পর পাতা ফেলে দিচ্ছেন? এর গুণ জানলে চোখ কপালে উঠবে

চা ছাড়া আমাদের সকাল শুরু হয় না। জমে না সান্ধ্য আড্ডা। চা হয়ে যাওয়ার পর প্রতিদিন আমরা সেই পাতা ফেলে দিই। কিন্তু জানেন এই ফেলে দেওয়া চা-পাতা (leftover tea leaves) আপনার সংসারে কত কাজে লাগতে পারে?

কেটে যাওয়া সংক্রমণ রোধ থেকে ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করা, গাছের যত্ন থেকে ঘর পরিষ্কার, ফেলে না দিয়ে সবেতেই ব্যবহার করা যায় এই চা-পাতা।

 

কীভাবে?

চায়ের পাতায় রয়েছে অ্যান্টি অ্যাক্সিডেন্ট। শরীরে আঘাত লাগলে কোনও মলম যদি না পান তাহলে হাতের কাছে থাকা চা-পাতাটাই ব্যবহার করুন। চা তৈরির পর যে পাতাটা থাকবে সেটা আরও একটু জল দিয়ে ফুটিয়ে নরম করে আঘাতের জায়গায় লাগাতে পারেন।

মাছ কাটতে গিয়ে, মাংস ধুতে গিয়ে হাতে দুর্গন্ধ? সাবান দিয়েও যাচ্ছে না। তৈরির পর যে চা-পাতাটা পাবেন সেটাই দুহাতে ঘষে নিন। দেখবেন হাত দিয়ে ভুর ভুর করে চায়ের সুন্দর গন্ধ বের হবে।

ফ্রিজেও অনেক সময় বাজে গন্ধ বের হয়।চা তৈরির পর পাতাটা ফেলে না দিয়ে একটা ছোট্ট বাটিতে রেখে ফ্রিজে ভরে দিন। দুর্গন্ধ চলে যাবে।

সারাদিন কম্পিউটারের সামনে থাকেন? সিদ্ধ হওয়া চা পাতা ভাল করে ঠান্ডা করে নিন। একটা পরিষ্কার কাপড়ে বা টিস্যু পেপারে ব্যবহার হওয়া চা পাতা নিয়ে ফ্রিজে ভরে দিন। ঠান্ডা হলে টিস্যু-সহ চা-পাতা চোখে দিন। দেখবেন চোখের ক্লান্তি দূর হবে।

বাড়ির কাঠের আসবাবপত্র ব্যবহার হওয়া চা-পাতা দিয়েই ঝকঝকে তকতেক রাখতে পারেন। ব্যবহার হওয়া চায়ের পাতাকে সামন্য জল দিয়ে ভাল করে ফুটিয়ে নিন। দেখবেন গাঢ় লাল বা কালচে লিকার তৈরি হবে। সেটা ঠান্ডা করে, তার মধ্যে ছোট্ট একটা কাপড় চুবিয়ে নিংড়ে নিন। সেই কাপড়টা দিয়েই কাঠের আসবাবপত্র পরিষ্কার করুন।

চা তৈরির পর সেই চা-পাতা অনেকটা জল দিয়ে ফুটিয়ে নিন। ইষদুষ্ণ অবস্থায় গামলায় ঢেলে দিনভর কাজের পর পা-টা ডুবিয়ে রাখুন। এতে পায়ের নোংরা ধুয়ে যাবে। সারাদিন দৌড়ঝাঁপের ক্লান্তি দূর হবে। আর দিনভর জুতো পরে থাকলে পায়ে যে দুর্গন্ধ হয়, সেটাও চলে যাবে।

ব্রণর সমস্যায় ভুগছেন? ব্যবহার হওয়া চা কিছুক্ষণ পরিষ্কার জলে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সেই জলে তুলো ভিজিয়ে মুখ মুছে নিন। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন করুন। দেখবেন সমস্যা দূর হবে।

চুলের যত্নে এই ফেলে দেওয়া চা পাতা ভীষণ কাজে লাগে। ব্যবহারের পর চা পাতা ফুটিয়ে লিকার বের করে নিন। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনারের জায়গায় চা-এর লিকার ব্যবহার করুন। প্রাকৃতিক উপাদানে চুল হবে নরম, সুন্দর।

যাঁরা হেনা করেন তাঁরা এই চায়ের লিকারটা  দিয়ে হেনা ভিজিয়ে রাখুন। চুলে রং ধরবে খুব ভাল। হাতে পরার মেহেন্দিতেও চায়ের লিকার মিশিয়ে নিলে রং হবে গাঢ়।

গাছের গো়ড়ায় চিনি ছাড়া চায়ের লিকার শুকিয়ে দিন। বিশেষত গোলাপ গাছের গোড়ায়। দেখবেন কত সুন্দর ফুল ফুটবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 1 =