একদিনে জোড়া সোনা, ইরানকে হারিয়ে কবাডিতে ভারতের রাজত্ব

এশিয়ান গেমসে কবাডির মঞ্চে আবারও ভারতের দাপট। একই দিনে ইরানকে হারিয়ে সোনা জিতল ভারতের মহিলা ও পুরুষ দল। প্রথমে মহিলা দল ৩৭-৩৪ ব্যবধানে ইরানকে হারিয়ে সোনা নিশ্চিত করে। তার পর পুরুষ দলের পালা। টানটান ফাইনালে ইরানকে ৪০-৩৪ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জিতে নিল ভারত। ফলে একদিনেই কবাডিতে জোড়া সোনার আনন্দে মাতল ভারতীয় শিবির।
পুরুষদের ফাইনাল শুরু থেকেই ছিল হাড্ডাহাড্ডি। দুই দলের খেলোয়াড়দের দুরন্ত রক্ষণ ও আক্রমণে বারবার বদলেছে ম্যাচের পরিস্থিতি। শুরুতেই চাপে পড়ে যায় ভারত। একসময় মাঠে ভারতের খেলোয়াড় ছিলেন মাত্র দু’জন। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে জয়দীপ দাহিয়ার দুর্দান্ত রক্ষণ ইরানের আক্রমণ থামিয়ে ভারতকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। এরপর ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে ভারত।
অর্জুন দেশওয়ালের দুর্দান্ত আক্রমণে ভারত একসময় ১৬-১৪ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। কিন্তু ইরানও ছেড়ে কথা বলেনি। পাল্টা আক্রমণ ও শক্তিশালী রক্ষণে তারা ফের ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে তিন জনের রক্ষণে ভারতকে আটকে দিয়ে ১৮-১৭ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইরান।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য সম্পূর্ণ অন্য ছবি। পিছিয়ে থেকেও ভারতীয় খেলোয়াড়েরা মাথা ঠান্ডা রাখেন। একদিকে আসলাম ইনামদারের সফল আক্রমণ, অন্যদিকে ভারতীয় রক্ষণের ধারালো খেলায় ম্যাচ ঘুরতে শুরু করে। ইরানের একের পর এক আক্রমণ আটকে দিতে থাকে ভারতের রক্ষণ। সেই সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সুমিত। তাঁর একের পর এক শক্তিশালী রক্ষণ ইরানের আক্রমণ ভেঙে দেয়। ভারতীয় দল ধীরে ধীরে ব্যবধান বাড়াতে থাকে।
একসময় ভারত ২৯-২৪ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর ইরান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ভারতীয় রেইডাররা নিয়মিত পয়েন্ট তুলে নেন। শেষ দিকে সাত পয়েন্টের ব্যবধান তৈরি করে ভারত। হাতে তখন মাত্র দু’মিনিট। সেই সময় আর ঝুঁকি না নিয়ে ঠান্ডা মাথায় ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করে ভারত। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ৪০-৩৪ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়।
এই জয়ের সঙ্গে এশিয়ান গেমসে পুরুষদের কবাডিতে ভারতের সোনার সংখ্যা দাঁড়াল ন’টিতে। এখনও পর্যন্ত হওয়া দশটি আসরের মধ্যে ন’বারই সোনা জিতেছে ভারত। একমাত্র ব্যতিক্রম ২০১৮ সালের জাকার্তা আসর। সেবার ইরান চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এবং ভারতকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল। ২০২৩ সালের হাংঝৌ আসরে ফের সোনা উদ্ধার করে ভারতীয় পুরুষ দল। এবারও সেই ধারাই বজায় রইল।
পুরুষদের ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগেই মহিলা দলও একই প্রতিপক্ষ ইরানকে হারিয়ে সোনা জিতেছিল। মহিলা দলের জয়ও সহজ ছিল না। প্রথমার্ধে ২২-১৬ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে প্রবল লড়াইয়ে নামে ইরান। একসময় ব্যবধান কমে দাঁড়ায় মাত্র এক পয়েন্টে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সঞ্জুর গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণ এবং পুষ্পা রানার দুর্দান্ত রক্ষণ ভারতকে ফের স্বস্তি দেয়। শেষ পর্যন্ত ৩৭-৩৪ ব্যবধানে জয় আসে।
মহিলাদের এই সোনা এশিয়ান গেমসে তাদের চতুর্থ শিরোপা। ২০১০ সালে এশিয়ান গেমসে মহিলা কবাডি চালু হওয়ার পর ২০১৮ সালের জাকার্তা আসর ছাড়া প্রতিবারই সোনা জিতেছে ভারত। ফলে এদিনের জোড়া সোনা শুধু দুটি পদক নয়, এশিয়ার মাটিতে কবাডিতে ভারতের দীর্ঘদিনের আধিপত্যেরও বড় প্রমাণ। দুই ফাইনালেই সামনে ছিল ইরান, দুই লড়াইয়েই শেষ হাসি ভারতীয়দের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × five =