রাশিয়ার তেল কেনায় মার্কিন শুল্কে স্থগিতাদেশ ট্রাম্পের, স্বস্তিতে ভারত

ওয়াশিংটন : রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাস কেনার ওপর প্রস্তাবিত কড়া নিষেধাজ্ঞা এবং অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর করার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট’ অনুমোদিত হয়ে আইনে পরিণত হওয়ার এক মাসের মাথায় এই পদক্ষেপ নিলেন তিনি। আইনের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই বিধিনিষেধ সাময়িক মকুব করায় ভারত ও চিনের মতো শীর্ষ রুশ জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলির ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত সম্ভাব্য শাস্তিমূলক মার্কিন শুল্ক চাপানোর আশঙ্কা আপাতত কাটল।

এক মাস আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই বহুল আলোচিত ‘গ্রাহাম অ্যাক্ট’-এ স্বাক্ষর করেছিলেন। ওই আইনে স্পষ্ট সংস্থান ছিল, মস্কোর থেকে যারা সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস কিনবে, সেই শীর্ষ পাঁচটি দেশের বিরুদ্ধে আমেরিকা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক এবং নানাবিধ বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে। তালিকায় সরাসরি যুক্ত ছিল ভারত ও চিন। নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে এই কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার ঠিক মুখেই আইনে থাকা ‘সেকশন ১১৫’ প্রয়োগ করলেন প্রেসিডেন্ট।

এই ধারায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থের খাতিরে কংগ্রেসকে অবহিত করে যে কোনও বিদেশি ব্যক্তি, সংস্থা বা দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক স্থগিত বা পুরোপুরি মকুব করা যায়।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুল্ক অবিলম্বে কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়ে জ্বালানির দাম যেমন লাফিয়ে বাড়ত, তেমনই খোদ আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি চরম আকার ধারণ করার ঝুঁকি ছিল। পাশাপাশি ভারত ও চিনের মতো বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলির সঙ্গেও সরাসরি বাণিজ্যিক সংঘাত তৈরি হতো। ফলে বৈশ্বিক বাজার ও ঘরোয়া অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে ট্রাম্প এই বিশেষ ধারা প্রয়োগ করে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ আটকে দিলেন। তবে আইনটি বলবৎ থাকায় ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনা করে হোয়াইট হাউস যে কোনও সময় ফের এই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − 8 =