সুমন মণ্ডল, ঘাটাল: প্রধানের পদ থেকে তৃণমূলের প্রশান্ত রায়ের ইস্তফার পর আস্থা ভোটে জয়ী হয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল ব্লকের বীরসিংহ গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নিল বিজেপি। বুধবার পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান নির্বাচিত হলেন বিজেপির দেবাশীষ পাত্র। এই জয়কে ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। পঞ্চায়েত চত্বরে গেরুয়া আবির উড়িয়ে উদ্যাপনে মাতেন দলীয় কর্মীরা।
২৩টি আসনবিশিষ্ট বীরসিংহ গ্রাম পঞ্চায়েতে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি পেয়েছিল বাকি পাঁচটি আসন। সেই সময় পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচিত হন তৃণমূলের প্রশান্ত রায়। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েতের ক্ষমতার সমীকরণে বদল আসে। সম্প্রতি প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেন প্রশান্ত রায়। এরপরই নতুন প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বুধবার পঞ্চায়েতের সদস্যদের উপস্থিতিতে নতুন প্রধান নির্বাচনের জন্য ভোটাভুটি হয়। সেখানে ১৪টি ভোট পেয়ে জয়ী হন বিজেপির দেবাশীষ পাত্র। তাঁর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তৃণমূলের হাত থেকে পঞ্চায়েতের দায়িত্ব যায় বিজেপির হাতে।
নতুন প্রধান নির্বাচিত হওয়ার পর দেবাশীষ পাত্র বলেন, “দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালন করার চেষ্টা করব। সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করব।”
অন্যদিকে, প্রাক্তন প্রধানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট। তাঁর দাবি, গত কয়েক মাস ধরে প্রাক্তন প্রধানের ভূমিকার কারণে এলাকার মানুষ উন্নয়নমূলক কাজ ও বিভিন্ন পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পঞ্চায়েতের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল এবং বাসিন্দারা বিভিন্ন বিষয় জানতে চাইলে প্রাক্তন প্রধান পঞ্চায়েতে আসা বন্ধ করে দেন। ফলে প্রধানের শংসাপত্র-সহ বিভিন্ন পরিষেবা পেতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল এলাকার মানুষকে।
শীতল কপাটের বক্তব্য, সরকারি নিয়ম মেনেই নতুন প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের গতি বজায় থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বীরসিংহ গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষমতা বদল ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এক সময় ২৩টির মধ্যে ১৮টি আসনে জয়ী তৃণমূলের হাত থেকে পঞ্চায়েতের দায়িত্ব বিজেপির হাতে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। এখন নতুন প্রধানের নেতৃত্বে পঞ্চায়েতের পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ কতটা গতি পায়, সেদিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের।

