কলকাতা : কলকাতা হাইকোর্ট সোমবার এসআইআর অ্যাপিল ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ দিয়েছে যে, যাদের নাম এসআইআর তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, সেইসব হজযাত্রীদের আবেদন যেন অবিলম্বে শুনানি করা হয়। মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও ট্রাইব্যুনালকে পরামর্শ দেন যে, তারা যেন এই আবেদনগুলি যথাসম্ভব দ্রুত বিবেচনা করেন এবং সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।
আবেদনকারী হজযাত্রীদের দাবি, ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে তারা পাসপোর্ট ও হজ ভিসা পেতে চরম সমস্যা ও অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। আবেদনকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সমস্ত বৈধ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহ তারা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলেন। তা সত্ত্বেও ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো শুনানি বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। ফলে তাদের আসন্ন হজ যাত্রা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং বাধ্য হয়ে তাদের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় যাদের নাম বিবেচনাধীন (পেন্ডিং) তালিকায় রাখা হয়েছিল, তাদের মামলা নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের অন্তর্ভুক্ত করে ‘এসআইআর অ্যাপিল ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হয়েছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের ধীরগতির কাজকর্ম নিয়ে ক্রমাগত প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া পরিসংখ্যানে ট্রাইব্যুনালের এই ধীরগতির নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়। কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের কাছে ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন বা বিয়োজনের সাথে সম্পর্কিত মোট ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার ৪২৯টি আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে মাত্র ১ লাখ ২৬ হাজার ১৯৪টি আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে, যেখানে ৩৭ লক্ষ ৫ হাজার ২৩৫টি আবেদন এখনও বকেয়া পড়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ট্রাইব্যুনাল যদি এই গতিতেই কাজ চালিয়ে যায়, তবে বকেয়া পড়ে থাকা এই সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তি করতে ১২ বছরেরও বেশি সময় লেগে যাবে।

